Saturday , 19 September 2020
[cvct-advance id=20554]

৫০০ টাকারও কম খরচে দেশেই ক্যা’ন্সার স’নাক্তকরণ

রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই মরণব্যাধি ক্যা’ন্সার নির্ণয়ের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশের একটি গবেষক দল। প্রায় আড়াই বছরের চেষ্টায় উদ্ভাবিত ওই প্রযুক্তি ব্যবহার করে রক্তের যে কোনো পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যা’ন্সার সম্পর্কে আগাম বার্তাও পাওয়া যাবে।

ক্যা’ন্সার চিহ্নিত করার ওই গবেষণাটি করেছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ২৫ জন গবেষকের একটি দল। আর এ যন্ত্রের মাধ্যমে খুব অল্প খরচে জানা যাবে কোনো ব্যক্তির শরীরে ক্যান্সার আছে কি নেই। এতে সময় লাগবে পাঁচ থেকে ১০ মিনিট, আর জনপ্রতি খরচ পড়বে ৫০০ টাকারও কম।

হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহান্সমেন্ট প্রজেক্টের (হেকেপ) আওতায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সিলেটের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হকের নেতৃত্বে একদল গবেষক নন-লিনিয়ার অপটিক্স গবেষণায় ক্যা’ন্সার স’নাক্তকরণের সাশ্রয়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। গবেষক দলের অন্য সদস্যরা হলেন- প্রফেসর ড. শরীফ মো. শরাফ উদ্দিন, মনজ কান্তি বিশ্বাস, এনামুল হক প্রমুখ।

সাধারণত বেশিরভাগ সময় ক্যান্সার রোগ সনাক্ত হয় শেষ পর্যায়ে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই ডাক্তারদের তেমন কিছু করার থাকে না। বিশ্বে এখন পর্যন্ত এমন কোনো পদ্ধতি আবিষ্কার হয়নি, যার মাধ্যমে আগে থেকেই ক্যান্সার সনাক্ত করা যায়। তবে শাবির গবেষক দলের কারণে শুরুতেই ক্যা’ন্সার দ্রুত স’নাক্তের সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন হলো।

গবেষকরা বলেন, শাবিপ্রবির ল্যাবরেটরিতে ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের রক্তের সিরামে শক্তিশালী লেজার রশ্মি পাঠিয়ে নন-লিনিয়ার সূচক পরিমাপ করে নতুন এ প্রযুক্তিতে ক্যা’ন্সার স’নাক্ত করার কাজ শুরু হয়। বায়ো-কেমিক্যাল প্রক্রিয়ায় যে বাড়তি রিএজেন্ট ব্যবহার করতে হয় উদ্ভাবিত নতুন পদ্ধতিতে তা প্রয়োজন হয় না। এ পদ্ধতিতে প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে নতুন একটি পদ্ধতিতে রক্ত পরীক্ষা করে সম্ভাব্য ক্যা’ন্সারের ভবিষ্যদ্বাণী করার একটি সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে। এ উদ্ভাবনী প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে শুধু ক্যান্সার রোগাক্রান্ত রোগীদের রক্ত নয়, অন্য যে কোনো স্যাম্পলের নন-লিনিয়ার ধর্ম খুবই সহজে সূক্ষ্মভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হবে।

এ প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মূল বিষয় ‘নন-লিনিয়ার অপটিকস’ বাংলাদেশে ১৯৯৭ সালে প্রথম যাত্রা করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। শাবিতে প্রথমে শিক্ষার্থীদের থিওরিটিক্যাল কোর্স আকারে বিষয়টি পড়ানো হত এবং পরে ধাপে ধাপে তা ক্যান্সার সনাক্তকরণে হাত দেয়া হয়েছে বলে জানান পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং গবেষক দলের প্রধান ড. ইয়াসমিন হক।

ড. ইয়াসমিন হক বলেন, ক্যান্সার সনাক্তকরণের এই গবেষণা প্রথমে দশজন সাধারণ এবং ৬০জন ক্যান্সার রোগীর ওপর পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এতে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর রক্তের সেরামে একটা চেঞ্জ আসে। সেটা নন-লিনিয়ার অপটিকস ব্যবহার করে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে আগে ভাগেই পূর্বাভাস পাওয়া যায়।

জানা গেছে, এরই মধ্যে এ গবেষণার ফলের পেটেন্টের জন্য একযোগে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন করা হয়েছে। ক্যান্সার একটি ঘাতক রোগ। প্রতিবছর বিশ্বে বিপুলসংখ্যক মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারায়। ক্যান্সারের চিকিৎসা এতই ব্যয়বহুল যে এর চিকিৎসায় অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে। প্রাথমিক অবস্থায় ঘাতক এ রোগের বিষয়টি ধরা পড়লে সিংহভাগ ক্ষেত্রে জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়। চিকিৎসা ব্যয় হ্রাস পায়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশী বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত পদ্ধতিটি চূড়ান্ত মূল্যায়নে গ্রহণযোগ্য হলে তা চিকিৎসাবিজ্ঞান তথা মানবকল্যাণে একটি বড় অবদান বলে বিবেচিত হবে। এদিকে আগামী এক বছরের ভেতরে মানুষ এই প্রযুক্তির সুফল পাবে বলে জানান গবেষক দলের সদস্যরা।

Check Also

মাটির পাত্রে জল পানের উপকারিতা

আগেরকার দিনে মাটির পাত্রে পানি পান ও সংরক্ষণ করা হতে ব্যপক ভাবে। কালের পরিক্রমায় এখন ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!