হাসপাতালে এই ৭জিনিস ছুলেই আপনি হবেন মারণ রোগের শিকার! জানুন কেন

সাধারণত হাসপাতাল তার ব্যবহার্য স্থলকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু তা হলেও হাসপাতাল হল নানান রোগের আঁতুরঘর। কারন হাসপাতালে সকল রোগের চিকিৎসা হয়ে থাকে। তাই রোগীদের আত্মীয় স্বজনদের এইসব সংক্রামক রোগের জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী। আজকের প্রতিবেদনে আমরা জানাবো হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে গেলে আমাদের কোন কোন জিনিস এড়িয়ে চলা উচিত।

দরজার হাতল: হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে গিয়ে প্রথমে যেটা আমরা করি তা হলো নির্দিষ্ট কক্ষে প্রবেশ করার জন্য প্রথমেই দরজার হাত চেপে ধরে তা সামনের বা পেছনের দিকে ঠেলে দিকে ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করি। কিন্তু আপনার এই সামান্য কাজ বা সামান্য অসতর্কতা আপনাকে মারন রোগে সংক্রমিত করতে পারে।

কারণ প্রধানত হাসপাতাল বা নার্সিংহোম বিভিন্ন রোগের জীবাণু ছড়িয়ে থাকে আর শুধুমাত্র আপনি সেই দরজায় হাত চেপে ধরেছেন তা কিন্তু নয়, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন হাসপাতালে নার্স থেকে শুরু করে প্যারামেডিকেল কর্মচারী বা অনেক সময় সেবা নেওয়া রোগীরাও সে হাতল ধরে বাইরে বেরিয়েছে বা ভিতরে প্রবেশ করেছে। তাই এক্ষেত্রে রোগের জীবাণু এসব হাতলের সংস্পর্শে এসেছে।

ফলে বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ হতে পারে । তাই এবার থেকে হাসপাতাল বা নার্সিংহোম গেলে দরজার হাতল এড়িয়ে চলুন। আর যদি তা ধরতেই হয় তাহলে তা ধরার পর হয় তাহলে তা ধরার পর অবশ্যই সাবান দিয়ে বা কোন ডিসইনফেক্টান্ট ব্যবহার করুন হাত ধুতে।

লিফ্টের সুইচ বা বাটন: যেহেতু বর্তমানে আধুনিক বা বড় মানের হাসপাতালে বা নার্সিংহোমে লিফট পরিষেবা দেওয়া হয়ে থাকে এবং লিফটের মাধ্যমে রোগীদের এক কক্ষ থেকে অন্য তলায় নিয়ে যাওয়া হয়, তাই লিফটে রোগ জীবাণু সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। আর এসব ক্ষেত্রে নার্সরা বা প্যারামেডিকেল কর্মচারীরা যখন রোগীকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করে।

তখন তারা বিভিন্ন সময় লিফটের সুইচ বা বাটন প্রেস করে থাকে তার ফলে অত্যাধিক হারে এই সমস্ত রোগের জীবাণু সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায় আর রোগীদের এবং দর্শনার্থীদের যেহেতু আলাদা কোন লিফ্ট থাকে না তাই তাদের সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়। সব সময় হাসপাতালে বা নার্সিংহোমে গেলে গেলে লিফটের সুইচ বা বাটন এড়িয়ে চলুন।

চেয়ারের হাতল: সাধারণত নার্সিংহোম বা হাসপাতালে গেলে অনেক সময় আমাদের অপেক্ষা করে থাকতে হয় নির্দিষ্ট সময়ে রোগীর কক্ষে প্রবেশের জন্য , যখন আমরা আমাদের রোগীদের দেখা করতে পারি। আর এই অপেক্ষা করার সময় আপনি নির্দিষ্ট চেয়ারে বসে অপেক্ষা করেন। কিন্তু আপনার বসার আগে সে চেয়ারে অন্য অনেক ব্যক্তি বসেছেন এবং তারা ঘুরে এসেছেন বিভিন্ন রোগীদের সামনে থেকে বা তাই তাদের মধ্যেও আছে বিভিন্ন সংক্রামক রোগের জীবাণু।

আর এই জীবাণু তাদের মাধ্যমে চেয়ারের হাতলে এসে পৌঁছেছে। তাই পরবর্তী সময়ে আপনি যখন চেয়ারে বসে উন্মুক্ত হাত রাখবেন তখন তা আপনার শরীরের সংস্পর্শে অনায়াসে আসতে পারে ।তাই অবশ্যই হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে গেলে চেয়ারে বসে অপেক্ষা করলে অবশ্যই চেয়ারের হাতল ছেড়ে হাত রাখুন।

শৌচাগার বা প্রস্রাবাগার: অনেক সময় আমরা হাসপাতালে গিয়ে বা নার্সিংহোমে গিয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে শৌচালয় বা প্রস্রাবাগার গিয়ে থাকি। কিন্তু জানলে অবাক হবেন যে এইসব জায়গা সংক্রামিত জীবাণুর অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র। কারণ রোগীদের ও অতিথিদের বা রোগীর আত্মীয়দের জন্য আলাদা কোনো শৌচাগার বা প্রস্রাবাগার থাকে না সবাই একই শৌচাগার বা প্রস্রাবাগার ব্যবহার করে থাকে।তাই এক্ষেত্রে রোগ সংক্রমনের সম্ভাবনা কয়েকগুণ বেড়ে যায় তাই চেষ্টা করুন হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে গেলে প্রস্রাবাগার বা শৌচালয় এড়িয়ে চলা।

বিছানা: অনেক সময় রোগীর সাথে সময় কাটাতে হয় বিশেষ পরিস্থিতিতে যেমন রক্তদান করার সময় ।রোগীর সঙ্গে একই কক্ষে রাত কাটানোর জন্য ভুলবশত বা অনিচ্ছাকৃত ভাবে ব্যবহার হয়ে যায় রোগীর বিছানা যা কিন্তু মারাত্মক জীবাণু সংক্রামিত হয়ে থাকে। এছাড়াও অনেক সময় রোগীর পাশের বেড ফাঁকা থাকে ,সেখানে রোগীর আত্মীয়রা বসে থাকে বা রাত কাটানোর জন্য বিছানা হিসেবে তা ব্যবহার করে, যার ফলে রোগ সংক্রমনের সম্ভাবনা বহুগুণে বেড়ে যায়।

তাই ভুলেও রোগীর কক্ষে রাত কাটানোর প্রয়োজন পড়লে কখনোই তা রোগীর বিছানার চাদর ব্যবহার করবেন না বা উপস্থিত থাকা অবস্থায় থাকা কোন কোন শয্যা ব্যবহার করবেন না ।তবে বর্তমানে রোগীর সাথে আত্মীয়দের থাকতে দেওয়া এবং রাত কাটানোর অনুমতি দেওয়া হয়ে থাকে না যদিও সব জায়গায় জায়গায় এরকম না হতেও পারে।

রোগীর জন্য রাখা খাবার ও ফলমূল: অনেক সময় রোগীকে দেখতে এসে অনেক আত্মীয়স্বজন রোগীর পাশে রেখে যায় বিভিন্ন ফল এবং শুকনো খাবার। আর রোগী অনেক সময় সেই ফল খেতে ইচ্ছুক থাকে না। তাই বাড়তি ফল বা শুকনো খাবার রোগীর বাড়ির আত্মীয়রা রোগীকে দেখতে এসে বাড়িতে নিয়ে চলে যায় বা সেখানেই খেতে থাকেন যা কিন্তু একটি বিপদজনক অভ্যাস । রোগ সংক্রমণের ক্ষেত্রে এরকম ভাবে রোগীর পাশে রাখা ফল বা অন্য শুকনো খাবার কখনোই খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।

যদি একান্তই এসব ফল বা শুকনো খাবার গ্রহণ করতে হয় তাহলে তা ভালোভাবে বিশুদ্ধ বা জীবাণুমুক্ত করে গ্রহণ করতে হবে করতে হবে না হলে কিন্তু বিভিন্ন সংক্রামক রোগে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আর এ সমস্ত ফল বা শুকনো খাবার ভুলেও আপনার সাথে থাকা শিশুকে দেবেন না উপযুক্ত জীবাণু মুক্ত না করে।

হাসপাতালে ভ্রমণরত পোশাক: অনেক সময় রোগীকে দেখতে যাওয়ার পর হাসপাতাল বা নার্সিংহোম থেকে বেরিয়ে সেই পোশাকেই আপনি বাড়িতে এসে বাড়ি ছেলে মেয়ের সঙ্গে খেলাধুলা করতে থাকেন বা তাদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন অর্থাৎ খেলতে শুরু খেলতে শুরু করেন যা করলে আপনার শরীর থেকে সেই জীবাণু যা হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে গিয়ে প্রবেশ করেছে আপনার জামা কাপড়ে তা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বাড়ির শিশুদের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই অবশ্যই হাসপাতাল বা নার্সিংহোম গেলে বাড়ি পৌঁছে প্রথমে বাথরুমে প্রবেশ করুন এবং যে সমস্ত জামা কাপড় পরে আপনি হাসপাতাল বা নার্সিংহোম গিয়েছেন তা যাবতীয় ধুয়ে ফেলুন এবং সম্ভব হলে জুতো এবং অবশ্যই মোজা ধুয়ে নেবেন। এইভাবে আপনি রোগ সংক্রমণের হাত থেকে সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারেন।

পোষ্টটা কেমন লেগেছে সংক্ষেপে কমেন্টেস করে জানাবেন৷ T= (Thanks) V= (Very good) E= (Excellent) আপনাদের কমেন্ট দেখলে আমরা ভালো পোষ্ট দিতে উৎসাহ পাই।

Check Also

এটিএম ব্যবহার করে অজান্তেই ডেকে আনছেন বিপদ, জেনে নিন ১৩টি সতর্কতা

টাকা তোলার সময়, তাড়াহুড়োর মধ্যেই এটিএমে গিয়ে, নিজের অজান্তেই এই ভুল গুলো করেন অনেকে। দেখে ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *