সামান্য কালো তিলেই মুশকিল আসান! রাহু-শনির প্রকোপ থেকে বাঁচুন, ফেরান সৌভাগ্য

কালো তিল আপনাকে শনি দোষ, পিতৃ দোষ কিংবা রাহু-কেতুর দোষের মতো দোষ থেকে মুক্তি দিতে পারে। কালো তিল আপনাকে বহু দোষের হাত থেকে বাঁচাতে পারে। ছবি: শাটারস্টক। কালো তিল। সকলের রান্নাঘরেই এর দেখা মেলে। কিন্তু জানেন কি, এই কালো তিল আপনাকে শনি দোষ, পিতৃ দোষ কিংবা রাহু-কেতুর দোষের মতো দোষ থেকে মুক্তি দিতে পারে।

সনাতন ধর্ম জানায়, কয়েকটি ধর্মীয় রীতি নীতি অনুসরণ করলেই কিন্তু কালো তিল আপনাকে বহু দোষের হাত থেকে বাঁচাতে পারে। আপনার জীবন করে তুলতে পারে সর্বাঙ্গীন সুন্দর। পুরাণে তাই কালো তিলকে অত্যন্ত পবিত্র বস্তু বলা হয়েছে।

পাত্রে জল আর কালো তিল নিয়ে শিবলিঙ্গে নিবেদন করলে সমস্ত সমস্যা থেকে মিলবে রেহাই। প্রতি শুক্রবার নদী বা কুয়োতে এক মুঠো কালো তিল ফেললে ধনসম্পতি লাভ করবেন। আপনার কুণ্ডলীতে যদি শনি অশুভ স্থানে অবস্থান করে, তাহলে সরষের মধ্যে কালো তিল দিয়ে শনিদেবের উদ্দেশে অভিষেক করুন।

জীবন থেকে শনির কুপ্রভাব দূর হবে। কারও যদি নজর লেগে থাকে, তাহলে কালো তিল মুঠোয় ভরে যার নজর লেগেছে, তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত পর পর সাত বার স্পর্শ করান। যে ব্যক্তির জীবনে শনির ‘সাড়ে সাতি’ দশা রয়েছে, সে যদি প্রতি শনিবার নদীতে কালো তিল ভাসিয়ে দেয়, তাহলে সে সেই দোষের হাত থেকে রেহাই পেতে পারে।

রাহু-কেতুর অশুভ প্রভাব থেকে বাঁচতে কালো তিল দান করুন। পিতৃদোষ থেকে বাঁচতে পাত্রে কালো তিল ও জল নিয়ে প্রতি অমাবস্যায় সূর্যদেবের উদ্দেশে সেই অর্ঘ্য নিবেদন করুন।

কামাক্ষা মায়ের এই আসল রহস্য হয়তো আপনার অজানা! যা পড়লে শিউরে উঠবেন।

অসমের রাজধানী দিল পুরের গোহাটির আট কিলোমিটার দূরে নীলাচল পর্বতে অবস্থিত একটি সুবিখ্যাত প্রাচীন মন্দির কামাক্ষ্যা। মা কামাক্ষ্যার মন্দিরকে একান্ন সতী পিঠের মধ্যে একটি। মা কামাক্ষ্যার চমৎকারী শক্তির জন্যই একান্ন সতী পিঠের অন্যতম সতী পিঠ হিসেবে মানা হয়। কালিকা পুরাণ অনুসারে একবার মাতা সতীর পিতা দক্ষরাজ মাতা সতী ও ভগবান শিবকে ছাড়া সমস্ত দেবী দেবতাদের মহাযজ্ঞে আমন্ত্রণ জানান।

তখন মাতা সতী ও ভগবান শিবের মধ্যে মতবিরোধ হওয়ায় মাতা সতী পিতা দক্ষরাজের ভবনে উপস্থিত হন এবং পিতাকে জিজ্ঞাসা করাই তাঁর ভবনে উপস্থিত সমস্ত দেবী দেবতাদের সামনে ভগবান শিবকে নানা কটূ কথা র দ্বারা অপমান করেন। সেই অপমান সহ্য করতে না পেরে মাতা সতী ওই মহাযজ্ঞের অগ্নিকুণ্ডে প্রাণ ত্যাগ করেন।

দেবাদিদেব মহাদেব স্ত্রীর মৃত্যু সহ্য করতে না পেরে মাতা সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে রুদ্র মূর্তি ধারণ করে তান্ডব নৃত্য শুরু করেন। তখন সমস্ত দেবতা দের অনুরোধে ভগবান শ্রীবিষ্ণু সুদর্শন চক্রের মাধ্যমে মাতা সতীর দেহ ছিন্ন ছিন্ন করে দেন যেখানে যেখানে মাতার শরীরের অংশ গিয়ে পড়ে সেখানে সেখানে সতী পিঠ তৈরি হয়।

কামাক্ষ্যা মন্দিরে মাতার শরীরের অংশের মধ্যে যোনি পড়ায় এখানে যোনি পূজা করা হয়। যোনিকেই পৃথিবী সৃষ্টির একমাত্র উৎস এবং পৃথিবীতে জন্ম নেওয়া সমস্ত মানুষের প্রবেশদ্বার হিসেবে মানা হয়। মাতার গর্ভগৃহে কোনো মূর্তি পূজা করা হয় না। মূল গর্ভগৃহে মাতার যোনি পূজা করা হয়। তবে বাইরের মন্দিরে মাতার দশটি রুপকে পূজো করা হয়। অম্ববাচীর সময় মাতার মন্দিরে প্রবেশ করা যায় না। সেই তিন দিন মন্দিরের প্রবেশদুয়ার বন্ধ রাখা হয়।

মহাদেবের তরুণ স্ত্রী ও মোক্ষদাত্রীর আদতে কামাক্ষ্যা নাম টির নামকরণ করা হয়। দেবী কামাক্ষ্যাকে তন্ত্রশক্তির দেবী ও তার মন্দিরকে তন্ত্র সাধনার সর্বোচ্চ স্থান হিসেবে ধরা হয়। এখানে কালাজাদু ও অশুভ শক্তির দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তিকে সুস্থ করানো সম্ভব এবং তাদের সুস্থ করানোর নানা উপাই যুগ যুগ ধরে দেওয়া হয়ে আসছে এই মন্দিরে।

সবসময় এখানে ভক্তদের আনাগোনা চলতে থাকে। তবে এই অম্বুবাচীর সময় ৫টি নিয়ম মেনে চললে ভক্তদের সমস্ত মনস্কামনা পূরণ হয়। ভিন্ন সম্পদায়ের মানুষ এখানে এসে ভক্তি ও নিষ্ঠার সাথে পূজা করলে পূর্ণ হয় তাদের মনের কামনা এমনটাই বলছেন মন্দিরের পুরোহিত ও দর্শনার্থীরা।

পাঁচটি নিয়ম কী কী সময় নষ্ট না করে জেনে নিন: –

১) নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে হোম অর্থাৎ অগ্নি স্থাপন করে সেই অগ্নির সামনে বসে নিজের ইষ্ট দেবতাকে মন থেকে সরণ করতে হবে।

২) নিজের মনের ইচ্ছা পূরনের জন্য মধ্য রাতে নির্জনে বসে কামাখ্যা দেবীকে একমনে সরণ করে প্রার্থনা করতে হবে।

৩) কামাখ্যা মন্দিরের সন্নিকটে অবস্থিত সৌভাগ্যকুন্ড। সেই সৌভাগ্যকুন্ডের পশ্চিম পাড়ে বসে পুরোহিত নির্ধারিত নিয়ম মেনে বুক সমান জলে নেমে তর্পন করতে হবে।

৪) এই সৌভাগ্যকুন্ডের পাশেই অবস্থিত আছে এক গনেশ বিগ্রহ। সৌভাগ্যকুন্ডে স্নান করে ভিজে শরীরে এই বিগ্রহকে দর্শন করতে হবে এবং পুরোহিত দিয়ে পুজো করাতে হবে।

৫) কামাখ্যা মন্দিরে অবস্থিত গুরুর কাছ থেকে দীক্ষা নেবার পর গুরুর দেওয়া ইষ্টমন্ত্র দিনের মধ্যে যত যতবার সম্ভব জপ করতে হবে।

মনে করা হয় এই ৫টি নিয়ম সঠিক ভাবে মেনে চললে একজন দর্শনার্থীর মনের ইচ্ছে পূর্ণ হতে পারে।।

এই তথ্যগুলি অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন, আপনিও জানুন তাদেরকেও জানান, শেয়ার করুন।

পোষ্টটা কেমন লেগেছে সংক্ষেপে কমেন্টেস করে জানাবেন৷ T= (Thanks) V= (Very good) E= (Excellent) আপনাদের কমেন্ট দেখলে আমরা ভালো পোষ্ট দিতে উৎসাহ পাই।

Check Also

অর্থভাগ্য ফেরাতে এই নিয়মগুলি মেনে লক্ষ্মীব্রত পালন করুন

ভাদ্র মাসে‌র শুক্লপক্ষের অষ্টমী থেকে আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী পর্যন্ত মা লক্ষ্মীর ব্রত রাখা হয়। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *