Saturday , 20 July 2019

রামের ১৪ বছরের বনবাসের সময় কি হয়েছিল অযোধ্যায়? জেনে নিন অজানা সেই কাহিনী

বাল্মীকি ও তুলসীদাস, দু’জনের রামায়ণই যারা পড়েছেন তাঁরা এমন কিছু তথ্য তুলে এনেছেন, যা আগে কোথাও সেভাব বলা হয়নি। রামায়ণের কিছু তথ্য তাই রয়ে গিয়েছে অজানাই।

যেমন রামের বনবাসের সময় ঠিক কি হয়েছিল, সে সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায়নি। আমরা শুধু জানি ওইসময় দশরথের মৃতর্যু হয়েছিল আর ১৪ বছর ধরে ঘুমিয়ে ছিলেন উর্মিলা। এর থেকে বেশি কিছু জানি না। জেনে নিন রামের অনুপস্থিতিতে ঠিক কি হয়েচিল অযোধ্যায়?

ভরত ও শত্রুঘ্ন ছিলেন মামার বাড়িতে। সেইসময়ই জোর করে রামকে বনবাসে পাঠান কৈকেয়ী। সেই খবর শুনেই ভরত ফিরে আসেন অযোধ্যায়। নিজের মায়ের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরপরই মন্থরার উপর রেগে যান তিনি।

কৈকেয়ী তাঁকে বোঝান যে ভরতের ভালোর জন্যই এমনটা করেছিলেন তিনি। কোনোরকমে তাঁকে আটকান শত্রুঘ্ন। তবে ভরত মন্থরাকে অভিশাপ দেন যাতে তিনি কোনোদিনই স্বর্গে না জায়গা পান। দশরথের মৃত্যুর পর তাঁর শ্রাদ্ধ। কিন্তু চিত্রকূটে চার ভাই মিলে দশরথের শেষকৃত্য সম্পন্ন করে।

রামকে ফেরাতে না পেরে অযোধ্যা ফিরে আসেন ভরত। কিন্তু রামের পাদুকা সিংহাসনে বসিয়ে রাজকীয়তা ত্যাগ করেন ভরত। সঙ্গে তাঁর স্ত্রী মাণ্ডবীও। এক ফুট মাটি খুঁড়ে ঘুমোতেন ভরত। স্বামীকে সম্মান জানাতে দু’ফুট মাটি খোঁড়েন মাণ্ডবী। প্রাসাদে ছিলেন একমাত্র শত্রুঘ্ন। বলা যায়, শত্রুঘ্ন আর শ্রুতকীর্তিই এই ১৪ বছর রাজত্ব চালান।

সন্তান নেই, ৮০০০ গাছের মা ১০৬ বছরের এই বৃদ্ধা..

ভারতের কর্নাটক রাজ্যের গুব্বি তালুকের বাসিন্দা বেকাল চিক্কাইয়ার সঙ্গে থিম্মাক্কার বিয়ে হয়েছিল। বিবাহিত জীবনের ২৫ বছর পরেও কোনো সন্তান হয়নি। সন্তান না হওয়ায় স্বামীর সঙ্গে অনন্য এক সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ঠিক করেন, গাছ লাগাবেন। আর তাদেরই বড় করবেন সন্তানস্নেহে। থিম্মাক্কার কিন্তু কোনো ডিগ্রি নেই। গ্রামের আর পাঁচজন দরিদ্র ভারতীয় নারীর মতোই শ্রমিক হিসেবে কাজ করে রুটিরুজি চালানো এক নারী।

ভূমিহীন দিনমজুর এই দম্পতি সমাজেও ছিলেন একঘরে, কারণ তারা বন্ধ্যা। কথা বলার সমস্যা থাকায় চিক্কাইয়াকে তার পড়শীরা বলত তোতলা চিক্কাইয়া। সমাজ বিচ্ছিন্ন লাজুক চিক্কান্না আর থিম্মাক্কার দিনগুলো ছিল বেশ একলা, বিষণœ। তখন থেকেই সিদ্ধান্ত নেন সমাজের বঞ্চনার জবাব দেওয়ার। তখনই মাথায় আসে গাছ লাগানোর বিষয়টি।

শুরুটা কীভাবে হলো? প্রথম বছরে ১০টি, দ্বিতীয় বছরে ১৫টি, তৃতীয় বছরে ২০টি বটগাছের চারা লাগালেন। এক সময় এই সন্তানদের দেখাশোনার জন্য দিনমজুরির কাজও ছেড়ে দেন চিক্কাইয়া। থিম্মাক্কা রোজগার করতেন, আর বাড়ি ফিরে স্বামীর সঙ্গে সন্তানদের দেখভাল করতেন।

আনন্দবাজার জানায়, প্রতিদিন প্রায় চার কিলোমিটার পেরিয়ে তারা এই গাছগুলোতে পানি দেওয়ার কাজ করতেন। গবাদি পশুর হাত থেকে চারাগাছগুলোকে বাঁচাতে কাঁটাতারের বেড়াও বানিয়ে দেন। তার গ্রাম হুলিকাল থেকে কুদুর অবধি ২৮৪টি বটগাছের চারা লাগিয়ে বড় করেছেন তিনি। প্রায় চার কিলোমিটার পথজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছায়াময় সুবিশাল গাছগুলো থিম্মাক্কার ভালোবাসারই নিদর্শন, বলেন পথচারীরাও। ১৯৯১ সালে স্বামী হারিয়েও একলা লড়াই চালিয়ে গেলেন থিম্মাক্কা।

তারপর থেকেই থিম্মাক্কা একা রইলেন গাছ সন্তানদের পরিচর্যায়। একঘরে, একলা হয়ে যাওয়া থিম্মাক্কার দৃঢ় মনোভাবে টাল খায়নি। যে পরিবার ছিল একঘরে। সেখান থেকেই থিম্মাক্কার কাজের প্রতি সম্মান দেখিয়ে গ্রামবাসীরা তাকে ‘সালুমারাদা’, বলে ডাকতে শুরু করলেন। কন্নড় ভাষায় যার অর্থ ‘গাছেদের সারি।’

তবুও সালুমারাদা থিম্মাক্কা লোকচক্ষুর আড়ালেই রয়ে যেতেন। স্থানীয়দের মাধ্যমেই তার কথা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ১৯৯৬ সালে ‘জাতীয় নাগরিক সম্মান’ ভূষিত হওয়ার পর তার কথা জানতে পারে গোটা দেশ। বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা এগিয়ে আসে তাকে সাহায্য করতে।

বর্তমানে থিম্মাক্কার গাছগুলোকে দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছে কর্নাটক সরকার। সেই প্রসঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সন্তানদের নিজে প্রতিপালন করতে পারলেই তিনি খুশি হতেন। কারণ কখনোই কারও সাহায্য চাননি তারা। ২০১৬ সালে বিবিসির বিচারে বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী নারীদের তালিকায় রয়েছে সালুমারাদা থিম্মাক্কার নামও। আন্তর্জাতিক স্তরের উদ্যোগে থিম্মাক্কা ফাউন্ডেশনেও তৈরি হয়েছে বিদেশের বিভিন্ন জায়গায়। সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ খুনের প্রতিবাদ সভাতেও থিম্মাকাকে দেখা গিয়েছে সম্প্রতি।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, গত ৮০ বছরে প্রায় ৮ হাজার গাছ পুঁতে তাদের বড় করে তুলেছেন ১০৬ বছর বয়সী এই বৃক্ষমাতা। স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পর্যন্ত হয়নি। সেই থিম্মাকাই এ বার পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছেন পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়নের কারণেই। পদ্মশ্রী ছাড়া আন্তর্জাতিক স্তরেও বহু পুরস্কার পেয়েছেন এই বৃক্ষমাতা।

আপনার কাছে পোষ্ট টি কেমন লেগেছে সংক্ষেপে কমেন্টেস করে জানাবেন ৷ T=(Thanks) V= (Very good) E= (Excellent) আপনাদের কমেন্ট দেখলে আরো ভালো ভালো পোষ্ট দিতে উৎসাহ পাই।

Check Also

বিপত্তারিনী পূজায় নিয়ম মেনে এই মন্ত্রটি বলুন, সব বিপদ কাটবে, মনষ্কামনা পূরন হবেই..

আষাঢ় মাসে সোজারথ থেকে উল্টোরথের মধ্যে যে শনিবার বা মঙ্গলবার পড়ে সেই দিন বিপত্তারিণী ব্রত ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *