যে ৯ খাবারের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক রয়েছে

আপনি সম্ভবত ইতোমধ্যে জানেন যে, কিছু খাবার ফিটনেস ও হার্টের জন্য ভালো নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা নিশ্চিত করেছে যে, জাঙ্ক ফুড ও অন্যান্য কিছু খাবার ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে। এখানে আপনার যা জানা প্রয়োজন তা দেওয়া হলো।

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কারণ: আপনার খাদ্যতালিকা উন্নত করার জন্য অনেক কারণ রয়েছে, কিন্তু গবেষণা সম্প্রতি নিশ্চিত করেছে যে, কিছু ক্যানসার বিকাশের ঝুঁকি কমানো হতে পারে সর্বোত্তম কারণ। উচ্চ চিনি, চর্বি ও লবণ সমৃদ্ধ প্রক্রিয়াজাত খাবার আপনাকে স্থূলতা ও এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত অবস্থা যেমন- ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের উচ্চ ঝুঁকিতে রাখে। সম্প্রতি পিএলওএস মেডিসিন নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় নিম্ন পুষ্টির খাবার এবং কিছু ক্যানসারের বর্ধিত ঝুঁকির মধ্যে সংযোগ পাওয়া গেছে।

সাম্প্রতিক গবেষণা নিয়ে কিছু কথা: গবেষকরা নিউট্রি-স্কোর লোগে নামে পরিচিত যুক্তরাজ্যের নিউট্রিশনাল লেবেলিং সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে গবেষণা করেন, যা ২০০৭ থেকে শুরু হয়েছে। এই গবেষণায় ৪৭০,০০০ এরও বেশি প্রাপ্তবয়স্কের খাবার মূল্যায়ন করা হয়। অন্যান্য ফ্যাক্টর (যেমন- এক্সারসাইজ না করা এবং ধূমপান করা) সংশোধন করার পরও গবেষকরা আবিষ্কার করেন যে, যেসব প্রাপ্তবয়স্ক সবচেয়ে কম স্কোরের খাবার খেয়েছিল তাদের পাকস্থলী, কোলরেক্টাল, শ্বাসনালী, ফুসফুস, যকৃত ও মেনোপজ-পরবর্তী স্তন ক্যানসারের উচ্চ ঝুঁকি ছিল।

খাবারকে ভয় পাবেন না: এই গবেষণা এটি ইঙ্গিত করছে না যে, মাঝেমাঝে এসব খাবার খাওয়া আপনার মৃত্যুর কারণ হবে। বরঞ্চ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিনিয়ত নিম্নমানের ডায়েটের ওপর থাকাই হচ্ছে সমস্যা: যদি আপনি নিয়মিত চর্বিহীন প্রোটিন, হোল গ্রেন, ফল ও শাকসবজি না খান এবং এর পরিবর্তে উচ্চ চর্বি, চিনি, লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খান- তাহলে আপনার খাদ্যতালিকা পুনরায় বিবেচনা করার সময় হয়েছে।

এখানে কিছু খাবার সম্পর্কে আলোচনা করা হলো যা এড়িয়ে চললে, বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনার ক্যানসারের ঝুঁকি কমবে।

বারবিকিউ: গ্রিল প্রেমিকেরা, সাবধান। অত্যধিক মাংস (বিশেষ করে, অত্যধিক রান্নাকৃত মাংস) ভোজনের সঙ্গে ক্যানসারের বর্ধিত ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে, বলেন আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির এপিডেমিওলজি রিসার্চের সায়েন্টিফিক ডিরেক্টর মিয়া গডেট। সমস্যা হচ্ছে, গ্রিলের ওপর মাংস রান্না করলে পিএএইচ নামক কার্সিনোজেনিক কম্পাউন্ড উৎপন্ন হতে পারে, তিনি বলেন। ফ্লেইম-ব্রয়েলড (সরাসরি তাপ প্রয়োগে রান্না) বার্গার বা স্টিকের পোড়া দাগ হচ্ছে কেমিক্যালের লক্ষণ যা খেতে যতটা সুস্বাদু, স্বাস্থ্যের জন্য তার চেয়েও বেশি খারাপ। গবেষণায় যেসব ইঁদুরকে এসব কম্পাউন্ড সমৃদ্ধ খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়ানো হয়েছিল তাদের ক্যানসারযুক্ত টিউমার বিকশিত হয়েছিল। এমনকি পোড়া টোস্টেও অল্প পরিমাণে এসব কম্পাউন্ড থাকে, বলেন গডেন। তাই যদি আপনি নিয়মিত উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নাকৃত মাংস খান, তাহলে বিকল্প পদ্ধতির খাবার গ্রহণের কথা বিবেচনা করুন।

গাঁজানো খাবার: উপকারী ব্যাকটেরিয়া সরবরাহ ও পরিপাকতন্ত্রের উপকারিতার কারণে গাঁজানো খাবার জনপ্রিয় হয়েছে। কিন্তু কিছু প্রাথমিক গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব খাবারের উচ্চ লবণের সঙ্গে পাকস্থলীর ক্যানসারের সংযোগ থাকতে পারে। গবেষণায় এশিয়ার লোকদের মধ্যে ক্যানসারের উচ্চ হার পাওয়া গেছে যারা প্রচুর গাঁজানো খাবার (যেমন-স্মোকড ফিশ) খেত, বলেন মেডিক্যাল অফিসেস অব ম্যানহাটনের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট সেগাল।

চারকুটেরি: সসেজ, ব্যাকন, হ্যাম ও স্যালামির মতো মাংস সংরক্ষণের প্রক্রিয়া নাইট্রাইটস গঠন করে। গবেষকরা পেয়েছেন যে, এই কম্পাউন্ড কোলন ও অন্যান্য ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে, বলেন গডেট। এ কারণে এসিএস (আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি) গাইডলাইন আপনার ডায়েটে প্রক্রিয়াজাত মাংস সীমিত করার জন্য সুপারিশ করছে। স্মোকিং, সল্টিং অথবা কিউরিংয়ের মাধ্যমে সংরক্ষিত মাংস কম খান।

অ্যালকোহলিক পানীয়: অ্যালকোহলের ক্ষেত্রে কোয়ালিটির চেয়ে কোয়ান্টিটি বড় ফ্যাক্টর। পরিমিত থেকে উচ্চ মাত্রার অ্যালকোহল পানের সঙ্গে ক্যানসারের বর্ধিত ঝুঁকির শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে, বলেন গডেট। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা এক সার্ভিংয়ের বেশি অ্যালকোহল পান করতে নিষেধ করছেন।

লাল মাংস: যেকোনো ধরনের লাল মাংস (যেমন- গরুর মাংস, শূকরের মাংস, ভেড়ার মাংস) আপনার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। প্রতি সপ্তাহে ১৮ আউন্সের বেশি লাল মাংস ভক্ষণ আপনার কোলরেক্টাল ক্যানসার বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে পারে, আমেরিকান ইনস্টিটিউট ফর ক্যানসার রিসার্চ অনুসারে। এ কারণে অধিকাংশ স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় আপনার ডায়েটের বেশিরভাগ প্রোটিন উদ্ভিজ্জ উৎস (যেমন- বিনস ও টফু) থেকে পেতে সুপারিশ করছে।

কোমল পানীয়: গবেষকরা এখনো চিনি ও ক্যানসারের মধ্যে সংযোগ নিয়ে তদন্ত করলেও অত্যধিক চিনি ভোজন নিশ্চিতভাবে ওজন বৃদ্ধি করতে পারে। একটি বিষয় খুব পরিষ্কার যে, অতিরিক্ত ওজন ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। উদাহরণস্বরূপ, আপনার শরীরে যত বেশি চর্বি থাকবে, আপনার ইস্ট্রোজেনের মাত্রা তত বেশি হবে এবং এটি স্তন ক্যানসার ও প্রজননাঙ্গে ক্যানসার বিকাশের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে, ডা. সেগাল সতর্ক করেন।

মাইক্রোওয়েভ পপকর্ন: প্রায়ক্ষেত্রে মাইক্রোওয়েভ্যাবল পপকর্ন ব্যাগে লাইনার হিসেবে ননস্টিক কোটিং ব্যবহার করা হয়। ননস্টিক কোটিংয়ে পিএফওএ নামক কেমিক্যাল থাকে। প্রাণীর ওপর চালানো গবেষণায় পাওয়া যায়, এই কেমিক্যাল যকৃত, অণ্ডকোষ ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। ঘরে বানানো পপকর্ন খেতে পারেন। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে বিকল্প লাইনারের পপকর্ন খেতে পারেন।

ক্যানড টমেটো ও সস: উৎপাদকরা কিছু প্লাস্টিকে বিসফেনল এ (বিপিএ) ব্যবহার করে। খাবারের ক্যানেও এটি ব্যবহার করা হয়। সমস্যা? বিপিএ শরীরে সেক্স হরমোনের প্রাকৃতিক উৎপাদনে হস্তক্ষেপ করতে পারে, যা স্তন ও প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি উচ্চ করে। টমেটোর উচ্চ অম্লতা ক্যান থেকে এই কেমিক্যাল টমেটো বা সসের সঙ্গে মেশাতে পারে। আপনি ক্যানড টমেটোর পরিবর্তে তাজা টমেটো ও অম্লতাযুক্ত সাইট্রাস ফল পছন্দ করতে পারেন।

গরম পানীয়: কফি ও চা নিয়ে প্রচুর মতভেদ রয়েছে, কারণ উভয়ের অন্যান্য স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্ভাব্য কার্সিনোজেনের তালিকা থেকে কফি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। কিন্তু গবেষণা উল্লেখ করেছে, ১৪৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি তাপমাত্রায় পানীয় পরিবেশন খাদ্যনালীর ক্যানসারের ঝুঁকি উচ্চ করে। গবেষকরা ধারণা করছেন যে উচ্চ তাপমাত্রা টিস্যু ড্যামেজ করতে পারে, যার ফলে এটিতে ক্যানসারযুক্ত লেশন (লেশন হচ্ছে অস্বাভাবিক টিস্যুর অংশ, যা বিনাইন অথবা ক্যানসারযুক্ত হতে পারে) বিকাশের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অধিকাংশ বাণিজ্যিক পানীয় ১৪০-১৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট রেঞ্জে পরিবেশন করা হয়। তাই গরম পানীয় পানের পূর্বে এটিকে পর্যাপ্ত ঠান্ডা হতে দিন।[১]

ক্যানসার কেন হয়?

ক্যানসার মরণব্যাধি। সাধারণত জিনগত ও পরিবেশগত কারণে ক্যানসার হয়। ক্যানসারের কারণের বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. রকিব উদ্দীন আহমেদ। রকিব উদ্দীন আহমেদ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ক্যানসার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : সাধারণত কোন বিষয়গুলো ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়?

উত্তর : ক্যানসার একটি মরণব্যাধি বা ঘাতকব্যাধি। একে যতই ঘাতকব্যাধি বলা হোক, এখন চিকিৎসা ব্যবস্থা আসার পর, এটি কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আসলে যদি সম্পূর্ণ দৃশ্যের কথা বলি তিন ভাগের এক ভাগ ক্যানসার কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য। ক্যানসার যেন না হয়, সে বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিতে পারি।

আবার তিন ভাগের এক ভাগ রোগী চিকিৎসাযোগ্য। মানে নিরাময়যোগ্য। তারা ভালো হয়ে যাবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যদি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে, তাহলে রোগীর ভালো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক। ভালো হয়েও যায়। তিন ভাগের এক ভাগ রোগী অগ্রবর্তী পর্যায়ে আসে আমাদের দেশে। তখন এর চিকিৎসা করে অতটা সফলতা পাওয়া যায় না। এই জন্য আমাদের উচিত হবে ক্যানসার প্রতিরোধ করা। আমাদের দেশের বেশিরভাগ লোকই গরিব। এই চিকিৎসা ব্যবস্থা একটু ব্যয়বহুলও বটে। আবার ব্যয়বহুল বলে যে অনেক ব্যয় ততটা না। চিকিৎসা ব্যয় সব ক্ষেত্রে সব রোগের জন্য প্রযোজ্য। ক্যানসারের রোগ নিয়ে মানুষের একটি ধারণা যে এটি খুবই ব্যয়বহুল। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ক্যানসার নিয়ে যুদ্ধ করতে হয়। এই যুদ্ধে তার বিভিন্ন সময় অনেক অর্থ ব্যয় হয়ে যায়। এই যুদ্ধটা যদি অনেক আগেই শুরু করা যায়, রোগ শনাক্ত যদি আমরা আগেই করি, তাহলে আমাদের এই অর্থ অপচয় বা অর্থ ব্যয় যেটি বলা হয়, এটিও কমে আসবে।

প্রশ্ন : ক্যানসারের ঝুঁকিগুলো কী?

উত্তর : ক্যানসারের কারণগুলোর কথা যদি বলি, এগুলোকে আসলে দুটো ভাগে ভাগ করতে পারি। একটি হলো জিনগত কারণ। এর মানে হলো এটি জিনের পরিবর্তনের কারণে আসছে। এই জিনগত পরিবর্তনের কিছু অংশ আবার বংশগত। মানে, পরিবারগতভাবেই চলে আসছে। মায়ের থাকলে মেয়ের হতে পারে। এটি একটি অংশ। আর আরেকটি অংশ হলো পরিবেশগত। আসলে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে পরিবেশগত কারণের দিকে।

এই পরিবেশগত কী কী কারণ হতে পারে? একটি খুব বড় কারণ রয়েছে। আমি মনে করি, এটি একেবারে প্রধান কারণ। সেটি হলো ধূমপান। আমরা যদি ধূমপানের বিষয়ে আরো জোড়ালো ভূমিকা নেই বা আমরা ধূমপানের বিষয়ে সতর্ক থাকি, একে যদি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, তাহলে আমাদের একটি বড় অংশ ক্যানসার প্রতিরোধ করতে পারবে।

প্রশ্ন : ধূমপান কি কেবল ফুসফুসের ক্যানসারের জন্য দায়ী? না কি অন্য ক্যানসারের জন্যও দায়ী?

উত্তর : ধূমপানের সঙ্গে ফুসফুসের ক্যানসারের সম্পর্ক জোড়ালো। তবে এই ধূমপানের সঙ্গে বেশিরভাগ ক্যানসারের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। যেটি আমরা ফুসফুসের ক্ষেত্রে বলি, ঠিত অতটা অংশ হয়তোবা নয়, তবে থাকে। আমাদের দেশে দ্বিতীয় ক্যানসার হলো ল্যারিংস, যাকে আমরা শ্বাসনালি বলি- আসলে নাক কান গলা, মুখ গহ্বরের ক্যানসারের সঙ্গে একেবারে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

এ ছাড়া মেয়েদের অন্যতম ক্যানসার হলো জরায়ুর ক্যানসার। জরায়ুর ক্যানসারের সঙ্গে ধূমপানের সম্পর্ক রয়েছে। শুধু তাই নয়, আমরা যদি পাকস্থলীর কথা বলি, আমরা যদি ইউরিনারি ব্লাডারের কথা বলি, মোটামুটি কমবেশি সলিড টিউমারের সঙ্গে ধূমপানের সম্পর্ক রয়েছে।

প্রশ্ন : যেসব তামাক চিবিয়ে খেতে হয়, সেগুলোও কি ক্যানসার হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে?

উত্তর : আসলে কেবল ধূমপান নয়, তামাকজাত যেকোনো দ্রব্যের ব্যবহারের কারণে সমস্যা হতে পারে। জর্দ্দা, সাদা পাতা, সবগুলকেই আমরা তামাকজাত দ্রব্য বলি।

এগুলো ছাড়া আমাদের কিছু ভাইরাস রয়েছে, সেগুলোর কারণে হয়। হারপিক্স ভাইরাস, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ইত্যাদি। নারীদের যে জরায়ুর ক্যানসার এটির সঙ্গে সরাসরি জরিত। ৯৫ ভাগ জরায়ুর ক্যানসারের সঙ্গে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস জড়িত।

ন্যাজোফ্যারিংস নাকের একটি ক্যানসার। আমাদের দেশে এটি এতটা বেশি নয়। তবে এর সঙ্গে ইবিস্টিন ভাইরাস নামক একটি ভাইরাস রয়েছে, যেটি জড়িত। আর বাংলাদেশে আরেকটি প্রচলিত ভাইরাস রয়েছে, যাকে আমরা হেপাটাইটিস ভাইরাস বলি। এই ভাইরাস দিয়ে আমাদের হেপাটেসিওয়াল কারসিনোমা নামে লিভারের একটি ক্যানসার হয়।

এ ছাড়া আরো কারণের কথা বলতে গেলে বলতে হবে স্থূলতা। এই স্থূলতা একটি অন্যতম কারণ। আমি একটি তথ্য দিতে চাই, যাঁদের মেনোপোজ বন্ধ হয়ে গেছে, তাদের যদি ১০ কেজি ওজন বাড়ে, তখন তার স্তন ক্যানসারের প্রবণতা বাড়ে।

আর তার ওজন কমে গেলে ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করবে। অর্থাৎ স্থূলতা একটি বড় ধরনের কারণ।

প্রশ্ন : পরিবেশগত কারণের মধ্যে আমরা বিভিন্ন ধরনের রেডিয়েশনের সংস্পর্শে আসি। এখান থেকে কি ক্যানসার হতে পারে?

উত্তর : বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ক্যানসারের জন্য খুবই দায়ী। আমরা বিভিন্ন ডাই ফ্যাক্টরিতে কাজ করি। কয়লার ফ্যাক্টরিতে কাজ করি। তাদের কিন্তু মূত্রথলি, মানে ব্লাডারের ক্যানসার হওয়ার প্রবণতা বেশি। প্লাস্টিক ফ্যাক্টরি, রাবার ফ্যাক্টরি, রঙের ফ্যাক্টোরি – এগুলো থেকে বিভিন্ন ডাই এর মাধ্যমে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

কিছু রেডিয়েশন দায়ী, কিছু ওষুধ রয়েছে, এগুলো দায়ী। আরেকটি কারণ হলো কায়িক পরিশ্রম না করা। এগুলোও ক্যানসারের একটি প্রধানতম কারণ। এ ধরনের কারণের জন্য ক্যানসার হতে পারে।[২]

ক্যানসার প্রতিরোধে ছয় ধরনের খাবার

দৈনন্দিন খাদ্যাভাস এবং জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনলে ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব। গবেষকদের মতে, ক্যানসার প্রতিরোধে সঠিক খাদ্যাভ্যাস খুবই জরুরি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে দেওয়া হয়েছে ক্যানসার প্রতিরোধে ছয়টি খাদ্যের পরামর্শ।

১. এড়িয়ে চলুন ক্যানসারে জন্য দায়ী উপাদান: এমন খাদ্যদ্রব্য বা নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করা উচিত নয় যেগুলোতে ক্যানসার হওয়ার উপাদান বা কারসিনোজেন্স রয়েছে। এটি দেহের কোষীয় বিপাকীয় পদ্ধতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কারসিনোজেন্স তৈরির অন্যতম কারণ হচ্ছে ধূমপান, টোবাকো এবং অ্যালকোহল গ্রহণ। এসব নেশা জাতীয় দ্রব্য ত্যাগ করলে ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকারক গ্যাস এবং রাসায়নিক দ্রব্য থেকে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যেসব ব্যক্তিরা গ্যাস বা রাসায়নিক কারখানায় কাজ করেন তাঁদের অনেক বেশি সচেতন থাকা প্রয়োজন।
প্রক্রিয়াজাত খাদ্যদ্রব্য এড়িয়ে চলুন। এগুলোতেও ক্যানসার হওয়ার উপাদান থাকে। নিয়মিত তাজা ফল এবং সবজি গ্রহণ করুন।

২. সবুজ সবজি গ্রহণ: বিভিন্ন ধরনের সবুজ সবজি ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। শীতকাল সবজির জন্য সবচেয়ে ভালো সময়। সবুজ সবজি যেমন : পালং,মেথি ইত্যাদি আপনার খাদ্য তালিকায় প্রতিদিনই রাখতে পারেন। স্যুপ, রুটি-পরোটা এবং ডাল তৈরিতে এসব সবজি ব্যবহার করতে পারেন। তাজা সুবজ সবজি ক্যানসারের উপাদানগুলোর কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে সাহায্য করে।

৩. রাঙিয়ে তুলুন খাবারের থালা: পুরনো প্রবাদে রয়েছে, খাবারের থালা যদি বেশি রঙিন হয় তবে সুস্বাস্থ্যের আশা করতে পারেন আপনি। তাই খাবারের থালাকে সাজিয়ে তুলুন বিভিন্ন রঙের সবজি দিয়ে। সবজিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন যেগুলো ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। তাই খাবারের থালাকে সাজিয়ে তুলুন ফুলকপি, গাজর, বিট-পালং ইত্যাদি সবজি দিয়ে।

৪. পেঁয়াজ ও রসুন: খাবারের তালিকায় অবশ্যই পেঁয়াজ এবং রসুন রাখুন। এগুলো ক্যানসার প্রতিরোধে ভালো কাজ করে।

৫. হয়ে উঠুন নিরামিষভুজী: গরু, খাসি বা লাল মাংস খাওয়া এড়িয়ে চলুন। এ ধরনের মাংসগুলো ক্যানসার তৈরিতে সাহায্য করে। সম্প্রতি গবেষণায় বলা হয়, মাংস খাওয়া বাদ দিয়ে খাদ্যাভ্যাসে যদি প্রচুর পরিমাণ সবজি রাখা যায় তবে সেটি ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এ ছাড়া বেশি পোড়া খাবারও এড়িয়ে চলুন।

৬. ভেষজ খাবার: কিছু ভেষজ জাতীয় খাবারে এন্টি অক্সিডেন্ট থাকে। যা ক্যানসারের কোষ ঝিল্লি তৈরি ব্ন্ধ করতে কার্যকরী। ভেষজ জাতীয় খাবার যেমন অশ্বগন্ধা, তুলসি, ত্রিফলা ইত্যাদি। তাই এ ধরনের খাবারের অভ্যাস করতে পারেন।

পোষ্টটা কেমন লেগেছে সংক্ষেপে কমেন্টেস করে জানাবেন৷ T= (Thanks) V= (Very good) E= (Excellent) আপনাদের কমেন্ট দেখলে আমরা ভালো পোষ্ট দিতে উৎসাহ পাই।

Check Also

যে ১২ টি খাবার শুক্রাণু বৃদ্ধির জন্য ঔষধের মত কাজ করে!

শরীরের পুষ্টির জন্য প্রয়োজন সুষম খাদ্য। পুষ্টিকর খাদ্য শুধুমাত্র আপনার শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখে শুধু ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *