যে ১০টি ভুলের কারনে এতো সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হচ্ছে! জানুন #৮ নাম্বার ভুলের কারনে হতে পারে মৃত্যু।

পড়িবারকে নিরাপদ রাখতে বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার থাকলে যে ১০টি ভুল কখনই করবেন না, গ্যাস সিলিন্ডার থাকলে – বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার থাকলে সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চলা ভালো। যা না জানা থাকলে বড় বিপদে পড়তে পারেন আপনি অথবা আপনার প্রিয়জন। গ্যাস সিলিন্ডার বিষয়ক প্রয়োজনীয় ১০টি নিয়ম জেনে রাখুন-

১. গ্যাস সিলিন্ডারের সঙ্গে যে রবার পাইপটি থাকে, সেটিতে ‘আইএসআই’ ছাপ থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তার সঙ্গে আরও একটি বিষয় খেয়াল রাখুন, গ্যাসের পাইপটি যেন দৈর্ঘ্যে এক থেকে দেড় ফুটের বেশি লম্বা না হয়। সে ক্ষেত্রে পাইপ পরীক্ষার সময়ে অসুবিধা হবে। ২. রেগুলেটরের নজলটি যাতে পাইপ দিয়ে ভাল করে কভার করা থাকে, তা লক্ষ্য রাখুন। গরম বার্নারের সঙ্গে যাতে গ্যাসের পাইপ কোনও ভাবে লেগে না থাকে, তা খেয়াল রাখুন।

৩. পাইপটি নিয়মিত ভিজে কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করুন, কিন্তু ভুলেও সাবান জল ব্যবহার করবেন না। ২ বছর অন্তর অবশ্যই পাইপটি বদলে ফেলুন। ৪. পরিষ্কার রাখার জন্য গ্যাসের পাইপটিকে কোনও রকমের কাপড় বা প্লাস্টিক জাতীয় জিনিস দিয়ে মুড়ে রাখবেন না। সে ক্ষেত্রে পাইপ ফেটে গেলে বা লিক হলে ধরা পড়বে না।

৫. গ্যাস লিক হচ্ছে বুঝতে পারলে বাড়ির কোনও ইলেক্ট্রিক অ্যাপ্লায়েন্স অন করবেন না। ওভেন, রেগুলেটর বন্ধ করে জানলা, দরজা খুলে দিন। ৬. গ্যাস লিক করার পরে যদি কিছু ক্ষণের মধ্যে গন্ধ বন্ধ না হয়, তাহলে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের অফিস বা হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করুন (১৯০৬)। সিলিন্ডার থেকে রেগুলেটর আলাদা করে দিয়ে সিলিন্ডারের মুখে সেফটি ক্যাপও পরিয়ে দিতে পারেন।

৭. খালি সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের রেগুলেটর খোলার সময় আশেপাশে কোনও মোমবাতি, প্রদীপ জাতীয় জিনিস যাতে না জ্বলে, তা খেয়াল রাখুন। ৮. একটি ঘরে দু’টি সিলিন্ডার রাখার জন্য অন্তত ১০ বর্গফুট জায়গা থাকা জরুরি। এমন জায়গায় সিলিন্ডার রাখবেন না যেখানে সহজেই তা অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে। ৯. সিলিন্ডারের উপররে কখনওই কোনও কাপড়, বাসন ইত্যাদি রাখবেন না।

১০. গ্যাসের ওভেনটি সব সময়ে সিলিন্ডারের অন্তত ছয় ইঞ্চি উপরে রাখুন। ওভেনের উপর যাতে সরাসরি হাওয়া না লাগে, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ রোধে করণীয়ঃ রান্না করতে গিয়ে তীব্র গ্যাস সংকট এখন প্রতিদিনের সমস্যা। এমনকি কিছু কিছু এলাকা আছে যেখানে দিনের অধিকাংশ সময়ই গ্যাসের দেখা মিলে না।

গ্যাস সংকট থেকে রেহাই পেতে অনেকেই ঝুঁকছেন এলপি গ্যাসের দিকে। এবং এলপি গ্যাস সিলিন্ডার শুধু বাসাবাড়িতে কিংবা হোটেল-রেস্তোরাঁয় রান্নার কাজে নয়, বর্তমানে যানবাহনেও ব্যবহৃত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহারের ত্রুটি থেকে দুর্ঘটনা ঘটে। এজন্য মূলত জনসাধারণ ও ব্যবহারকারীদের সতর্ক ও অধিকতর সচেতন হতে হবে।

তারা সচেতন হলেই এলপি গ্যাস বিস্ফোরণজনিত দুর্ঘটনা শূন্যের কোটায় নেমে আসবে। বিশেষ করে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকা খুব জরুরি। গ্যাস এজেন্টদের থেকে গ্যাস নেওয়ার সময় অবশ্যই গ্যাস সিলিন্ডারের এক্সপায়ারি ডেট দেখে নিন। গ্যাস সিলিন্ডারের পাইপ ও রেগুলেটর নিয়মিত চেক করা দরকার।

এছাড়াও প্রত্যেকদিন গ্যাস ব্যবহার করার সময় এই বিষয়গুলির উপর নজর রাখুনঃ ১. গ্যাস সিলিন্ডার সোজা করে সঠিকভাবে রাখা খুব জরুরি। উঁচু-নিচু জায়গায় না রাখা ভালো। তাতে পড়ে যাওয়ার যেমন সম্ভাবনা থাকে, তেমনই অন্যান্য দুর্ঘটনাও ঘটে যেতে পারে।

গ্যাস সিলিন্ডার কখনওই ফেলা বা ঘষা-টানা করা উচিত নয়। ২. রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করলে যেন বাতাস চলাচলের যথেষ্ট ব্যবস্থা থাকে। গ্যাস ব্যবহার করার সময় জানালা খুলে রাখুন। গ্যাসের পাশে দাহ্য জিনিসপত্র একেবারেই রাখা উচিত নয়। প্লাস্টিকের জিনিসপত্রও গ্যাস থেকে দূরে রাখুন।

৩. গ্যাসের পাইপ সময় সময় পালটানো দরকার। জোড়াতালি দিয়ে ব্যবহার না করাই ভালো। খামকা প্রাণের ঝুঁকি নেবেন না। পাইপ কেটে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা বদলে ফেলুন। ৪. গ্যাস বদল করার সময় রেগুলেটরটি লাগানোর সময় ঠিক করে লাগানো হয়েছে কিনা দেখে নিন। নয়তো বিপদের আশঙ্কা সৃষ্টি হতে পারে।

৫. অনেকেরই বাড়িতে একটি বাড়তি ভর্তি সিলিন্ডার রাখা থাকে। একটি শেষ হলেই যাতে অন্যটি হাতের কাছে থাকে। ভর্তি সিলিন্ডার কখনই ঘরের মধ্যে রাখা উচিত নয়। খোলামেলা জায়গায় রাখুন, যেখানে ছায়া আছে। গ্যাস সিলিন্ডার থেকে তাপ দূরে রাখাই ভালো। ৬. অনেকেই বাড়িতে বড় গ্যাস থেকে ছোটো গ্যাস ভর্তি করেন। এমনটা বাড়িতে করা একেবারেই উচিত নয়।

এতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। যদিও কেউ কেউ এটা করে থাকেন। সাবধান থাকা খুব দরকার। বাংলাদেশে বাসাবাড়িতে এবং বিভিন্ন যানবাহনে যেসব গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা হচ্ছে তার একটি বড় অংশই খুবই ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় কর্তৃপক্ষ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সিলিন্ডারগুলো পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে।

পোষ্টটা কেমন লেগেছে সংক্ষেপে কমেন্টেস করে জানাবেন৷ T= (Thanks) V= (Very good) E= (Excellent) আপনাদের কমেন্ট দেখলে আমরা ভালো পোষ্ট দিতে উৎসাহ পাই।

Check Also

সারা দিন ধরে আধ ঘন্টা অন্তর অন্তর দু চুমুক করে গরম জল পান করুন তারপর দেখুন কী হয়!

জল খেলে প্রাণ থাকবে…একথা তো সবারই জানা। কিন্তু একটু ছেঁকে দেখলে জানতে পারবেন, জলের প্রকৃতি ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *