ভারতের প্রথম নারী গোয়েন্দা! পুলিশ যা পারেনি, তা করে দেখালেন…

তিনি ভারতের প্রথম ‘মহিলা শার্লক হোমস’। হ্যাঁ, মহিলা হয়েও তিনি শখের গোয়েন্দা। গোয়েন্দাগিরিতে মেয়েরা আনফিট – এই আপ্তবাক্যকে মিথ্যে প্রমান করে দিয়েছেন দেশের প্রথম মহিলা গোয়েন্দা রজনী পণ্ডিত। মগজাস্ত্রের ধারে প্রায় ৮০, ০০০ মামলার সমাধান করেছেন তিনি। সম্প্রতি দেশে তাঁর প্রথম মহিলা গোয়েন্দা হয়ে ওঠার কাহিনীর কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন তিনি।

নিজেকে ‘‌দেশি শার্লক’‌ বলতেই পছন্দ করেন রজনী। জন্ম মহারাষ্ট্রের থানের পালঘর শহরে। বাবা শান্তারাম পণ্ডিত ছিলেন সিআইডি অফিসার। মহাত্মা গান্ধীর খুনের তদন্তকারীদের একজন। এমন বাপের মেয়ে যে দাপুটে গোয়েন্দা হবে তাতে আর আশ্চর্য কি! তাই বলে মাত্র ২২ বছর বয়সেই প্রথম মামলার নিখুঁত সমাধান! মারাঠী সাহিত্য নিয়ে রূপারেল কলেজে পড়াকালীন রজনী সেটাই করে দেখিয়েছেন রজনী।

এরপরেই তাঁর গোয়েন্দাগিরির কথা সবার মুখে মুখে ফিরতে থাকে। তবে নানারকম ঝামেলাও কম পোহাতে হয়নি। পুলিশের হেনস্থা ও হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছে। তবে দমে যাননি। বরং এগিয়ে গেছেন দ্বিগুন উৎসাহে। অসংখ্য কেসের নিখুঁত সমাধান করেছেন ৫১ বছর বয়সের রজনী। এর মধ্যে অনেকগুলিতেই প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা ছিল।

অপরাধের প্রমাণ পাওয়াই দুরূহ, এমন মামলাতেও পরীক্ষিত হয়েছে তাঁর মগজাস্ত্রের ধার। এক কেস থেকে আর এক কেস-এ গড়িয়ে গিয়েছে রজনীর গোয়েন্দাগিরি। প্রায়শই ছদ্মবেশ ধরতে হয় তাঁকে। কখনও কাজের লোক, কখনও উন্মাদিনী সেজে দিনের পর দিন কাটিয়ে দিতে পারেন। এভাবেই জড়িয়ে পড়েন জীবনের কঠিনতম মামলায়।

যে বাড়িতে তিনি প্রিচারিকার কাজ নিয়েছিলেন, সেই বাড়িরই গৃহকর্তা এবং তাঁর ছেলে খুন হন। ওই জোড়া খুনে প্রথম থেকেই সন্দেহের তালিকায় ছিলেন গৃহকর্তার স্ত্রী। কিন্তু তাঁকে গ্রেপ্তার করার মতো যথেষ্ট তথ্য প্রমান ছিল না পুলিশের হাতে। এদিকে ওই গৃহকর্ত্রীও রজনীকে সন্দেহ করতে শুরু করেছেন। কাজটিও যায়।

কিন্তু ততদিনে ‘ক্লু’ এসে গেছে রজনীর হাতে। দেখা গেল তাঁর অনুমানই ঠিক। সবামী-ছেলের জোড়া খুনে হাত ছিল ওই মহিলারই। রজনী জানতে পারেন, খুনের জন্য একজনকে ‘সুপারি’ দেওয়া হয়েছিল। তারপর রজনীর নির্দেশে সেই মহিলাকে জেরা করে সেই সুপারি কিলারের নাগাল পেতে খুব বেশী কাঠখড় পোড়াতে হয়নি পুলিশকে।

ফেসবুকে এই ঘটনা কীভাবে সমাধান করেছেন তা ব্যাখা করে জানিয়েছেন রজনী। তাঁর বিশ্লেষণ পড়ে উচ্ছ্বসিত সোশ্যাল মিডিয়াকুল। অধিকাংশের দাবি, বলিউড সিনেমা করুক রজনীকে নিয়ে। ইতিমধ্যে ৮০ হাজার কেসের সমাধান ছাড়াও দু’‌টি বইও লিখে ফেলেছেন তিনি। খুলেছেন একটি গোয়েন্দা সংস্থা। তাঁর গোয়েন্দাগিরির পুরষ্কারস্বরূপ ২০১০ সালে দূরদর্শন থেকে পেয়েছেন হিরকানি অ্যাওয়ার্ড।

২০১৪ সালে ‘ইনভেস্টিগেশন প্রফেশনাল অফ দ্য ইয়ারের’ সম্মানও অর্জন করেছেন রজনী। নারী হিসেবে তিনি যেমন এক নতুন পথের দিশারী, ঠিক তেমনই একজন দৃঢ়চেতা মানুষের উদাহরণও বটে। দেশে পুরুষের একক আধিপত্যে থাকা কর্মক্ষেত্রে তাঁর এই পদার্পণ ও সাফল্য এখন ভারতীয় নারীদের কাছে অনুপ্রেরণা।

পোষ্টটা কেমন লেগেছে সংক্ষেপে কমেন্টেস করে জানাবেন৷ T= (Thanks) V= (Very good) E= (Excellent) আপনাদের কমেন্ট দেখলে আমরা ভালো পোষ্ট দিতে উৎসাহ পাই।

Check Also

নুন্যতম মাধ্যমিক পাশে এই ব্যাংকে মোটা বেতনের চাকরির সুযোগ

একাধিক পদের জন্যে কর্মী নিয়োগ করবে এসবিআই। একাধিক পদের জন্যে হবে নিয়োগ। অনলাইন কিংবা সরাসরি ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *