পেঁয়াজের রস যেভাবে ব্যবহার করলে চুল পড়া চিরতরে বন্ধ হবে

অবহেলা অযত্নে চুলে তৈরি হয় বিভিন্ন সমস্যা। চুলের একাধিক সমস্যায় জর্জরিত মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। যাবতীয় সমস্যা সমাধান করে দিতে পারে পেঁয়াজের রস । পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে জীবাণু নাশক উপাদান থাকে। এই জন্য বিষাক্ত পোকা-মাকড় কামড়ালেও আমরা অনেক সময়ই পেঁয়াজের রস ব্যবহার করে থাকি।

পেঁয়াজের এই গুণটাই চুলের সমস্যা সমাধানে সব থেকে বেশি সাহায্য করে। পেঁয়াজের রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে চুলে লাগান। হাতে-নাতে ফল পাবেন। সমপরিমাণ মধু ও পেঁয়াজের রস মিশিয়ে মাথায় মাসাজ করুন। আধ ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন। ২-৩টি পেঁয়াজ ব্লেন্ড করে রস বের করে নিন। তারপর সেটি মাথার ত্বকে মাসাজ করুন।

মনে রাখবেন, রস আঙুলের ডগা দিয়ে মাথায় ত্বকে মালিশ করতে হবে। তার পর কমপক্ষে ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন।রকেল তেলের সঙ্গেও পেঁয়াজের রস মিশিয়ে রাখতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে নিয়মিত শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। আমন্ড অয়েলের সঙ্গেও পেঁয়াজের রস মেশাতে পারেন। এই মিশ্রণ চুলের গোড়া শক্ত করতে সাহায্য করে।

অলিভ অয়েলের সঙ্গে দুই বা তিন টেবিল চামচ পেঁয়াজের রস মিশিয়ে রেখে দিতে পারেন। সপ্তাহে তিনদিন ব্যবহার করুন। ঘণ্টাখানেক রাখার পর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। ফল পাবেন হাতে-নাতে।

১৯ বছর ধরে নদী সাঁতরে স্কুলে যান এই শিক্ষক। জানেন তিনি কে?

শিক্ষকতা মহান পেশা। আর এই প্রবাদ বাক্যকে যেন আরো নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন ভারতের স্কুলশিক্ষক এ টি আব্দুল মালিক। ঠিক সময়ে স্কুলে পৌঁছাতে ১৯ বছর ধরে প্রতিদিন নদী সাঁতরে পার হন তিনি। স্কুলের শিক্ষক হাজিরা খাতায় নেই এ মহান শিক্ষকের একদিনের অনুপস্থিতি!

এই স্কুল শিক্ষকের নাম এ টি আব্দুল মালিক। ১৯৯২ সাল থেকে কেরালার মুসলিম লোয়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। বাড়ি থেকে তাঁর স্কুলে যাওয়ার রাস্তা রয়েছে দুটি।

প্রথমটি হচ্ছে বাড়ি থেকে বের হয়ে দুবার বাস বদল করতে হবে, এরপর আবার দুই কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে যেতে হবে। আর এতে সময় লাগবে অন্তত তিন ঘণ্টা। দ্বিতীয় রাস্তাটি হচ্ছে বাড়ি থেকে হেঁটে স্থানীয় কাদালুন্দিপুঝা নদীর তীরে যেতে হয়। আর এতে সময় লাগে ১০ মিনিট। এরপর এই নদী সাঁতরে তীরে উঠে হাঁটতে হয় অন্তত তিন মিনিট। এরপর পৌঁছে যান তার প্রিয় শিক্ষার্থীদের কাছে।

এটি আব্দুল মালিক জানান, প্রতিদিন নদী সাঁতরে স্কুলে যেতে তার সময় ও অর্থ দুটিই সাশ্রয় হয়। এছাড়া গাড়িতে যেতে হলে অনেকদিন নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলে পৌঁছানো যায় না।

নদীর তীরে পৌঁছে তিনি তার পোশাক এবং অন্যান্য জিনিষপত্র প্লাষ্টিক ব্যাগে ভরিয়ে ফেলেন। চোখে পানিরোধক চশমা পরে প্লাষ্টিকের সেই ব্যাগ এক হাতে পানির ওপরে ধরে পারি দেন নদী। স্থানীয়দের কাছে এই শিক্ষক পরিচিতি পেয়েছেন জীবন্ত ঘড়ি হিসেবে। তিনি যখন প্রতিদিন পানিতে নামেন তখন ঘড়ির কাটা থাকে ঠিক ৯টায়।

এরপর নদীর তীরে ওঠে কাপড় পড়ে পৌঁছান স্কুলে। সেখানে হাসিমুখে অপেক্ষায় থাকে তার শিক্ষার্থীরা। মাসিক বেতন যা পান তাতেই খুশি এই শিক্ষক। বলেন, আমার কোনো সমস্যা ছিল না, এখনো নেই।

আব্দুল মালিকের আশা পরিবেশ ও নদীরক্ষায় তার এই কাজ অনেককেই উৎসাহ দিবে। এছাড়া তিনি মাঝে মাঝেই শিক্ষার্থীদের নিয়েও সাঁতার কাটতে বের হন। এর মাধ্যমে নিজেকেও ফিট রাখা যায় বলেও জানান এই শিক্ষক।

এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা তাঁকে সম্মাননা জানান। যুক্তরাজ্যের একজন মানসিক চিকিৎসক এই শিক্ষকের মহান এই ত্যাগের জন্য একটি নৌকা উপহার দেন। কিন্তু এর আগেই কেটে গেছে ১৯ বছর। নদী সাঁতরেই ইংলিশ চ্যানেলের সমপরিমাণ (৭০০ কিলোমিটার) দূরত্ব অতিক্রম করেছেন তিনি!

পোষ্টটা কেমন লেগেছে সংক্ষেপে কমেন্টেস করে জানাবেন৷ T= (Thanks) V= (Very good) E= (Excellent) আপনাদের কমেন্ট দেখলে আমরা ভালো পোষ্ট দিতে উৎসাহ পাই।

Check Also

পাঁকা পেঁপে খাওয়ার ১০টি উপকারিতা

বিশ্বের জনপ্রিয় ফলগুলোর মধ্যে একটি পেঁপে। স্বাদ ও গুনাগুণের কারণেই মানুষের কাছে এর এতো কদর। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *