পুরুষের চুল পড়া প্রতিরোধের ৯টি উপায়

পুরুষের চুল পড়া বা টাক সমস্যা রোধের কিছু উপায় হচ্ছে- খাদ্যাভ্যাস ঠিক রাখা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। আরো বিস্তারিত তথ্য নিয়ে এ প্রতিবেদন।

কি খাচ্ছেন তাতে নজর দিন: সুস্থ এবং ঘন চুলের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের কোনো বিকল্প নেই। চুলের বৃদ্ধির জন্য আমিষ খুবই প্রয়োজনীয়। তবে চুলের পাশাপাশি শরীরের খেয়াল রাখতে হলে অবশ্যই চর্বিহীন আমিষ খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। মাছে প্রচুর পরিমাণ চর্বিহীন আমিষ থাকে। তাছাড়া চর্বিহীন মাংস মানবদেহের আমিষের চাহিদা পূরণ করে থাকে। বাদাম পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভোজ্য বীজে প্রচুর ভিটামিন ই এবং স্বাস্থ্যকর স্নেহ পদার্থ থাকে যা চুলে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা ও পুষ্টি যোগায়। এমনকি কিছু মশলা চুলের পক্ষে খুবই উপকারী, যেমন: দারুচিনি। বিভিন্ন খাবারে দারুচিনি ব্যবহারের মাধ্যমে চুলের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন এবং পুষ্টির চাহিদা মেটানো সম্ভব।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন: আপনার চুলের ২৫ শতাংশ গ্রন্থি পানি দ্বারা গঠিত। আপনার দেহে পানির অভাব দেখা দিলে চুলের গ্রন্থিগুলো দুর্বল হয়ে যায় ফলে চুলের ঘনত্ব কমে যায় এবং চুল পড়া শুরু হয়। তাছাড়া দেহে পানির অভাব দেখা দিলে নতুন চুলগ্রন্থি তৈরি হয়না ফলে মাথায় চুলের পরিমাণ বাড়ে না।

ভিটামিন সেবন করুন: মানসিক চাপ, জিনগত সমস্যা এবং বিভিন্ন রোগ ছাড়াও পুরুষদেহে ভিটামিনের অভাব চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। মাথায় টাক পড়া প্রতিরোধ করতে পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভিটামিন নিয়মিত গ্রহণ করুন। ভিটামিন এ আপনার চুলের গ্রন্থিতে রেটিনয়িক এসিডের সংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ঘটাতে সাহায্য করে, ভিটামিন বি আপনার মানসিক চাপের মাত্রা কমিয়ে দেয়, ভিটামিন সি, ডি এবং ই আপনার দেহে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সংরক্ষণ করতে সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞ পরামর্শ গ্রহণ করুন: আপনার চুল পড়া সমস্যা দূর করার জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি। পরিস্থিতি বেগতিক হওয়ার আগে বেশি দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব একজন ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এ বিষয়ে ত্বক বিশেষজ্ঞ সিমর ওয়েভার বলেন, আপনার প্রথম কাজ হবে বিশেষজ্ঞ মতামতের মাধ্যমে চুল পড়ার কারণ এবং তা প্রতিরোধের উপায় খুঁজে বের করা। আপনি কোন কোন ওষুধ সেবন করেন, চুলের জন্য কোন প্রসাধনী ব্যবহার করেন এবং চুল বিষয়ে আপনার পারিবারিক ইতিহাস এক্ষেত্রে জরুরি। অনেক সময় দেখা যায় যে, আপনি যেসকল ওষুধ সেবন করছেন তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে আপনার মাথার চুল পড়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় সকল বিষয়াদি পর্যালোচনা করে বিশেষজ্ঞ যে পরামর্শ প্রদান করেন তা পালন করুন।

চুলের আঁটসাঁট স্টাইল বাদ দিন: আপনি যদি চুলের আঁটসাঁট স্টাইল পছন্দ করে থাকেন তাহলে এখনই সাবধান হয়ে যান। বিশেষজ্ঞ টিফানি ম্যাসিলো হেল্ট বলেন, ‘চুলে আঁটসাঁট স্টাইল করলে শক্ত টানের ফলে চুলের গোড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চুল পড়া শুরু হয়। তাছাড়া চুলের গ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে সেখানে আর চুল গজায় না। আপনি যদি চুলের আঁটসাঁট স্টাইল ধরেই রাখেন তাহলে আপনার মাথায় টাক পড়া ঠেকানো মুশকিল হয়ে পড়বে।’ যৌবনে হয়তো আপনার কাছে এটা কোনো সমস্যা বলে মনে হবে না, কিন্তু আপনার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুল পড়ার হার বাড়তে থাকবে এবং পরিণামস্বরূপ মাথায় টাক পড়বে।

ওষুধ সেবন করুন: চুল পড়া প্রতিরোধের জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ রয়েছে। মিনোক্সিডিল বা রোগেইন এর মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। চুল পড়া প্রতিরোধ এবং পুনরায় চুল গজানোর জন্য রোগেইন বেশ কার্যকরী ওষুধ। রোগেইন হচ্ছে ফেনা তৈরিকারী এক প্রকারের ওষুধ যা দিনে দুই বার আপনি সরাসরি মাথার ত্বকে লাগাতে পারেন। মাথার পেছন এবং সামনের অংশে চুল গজানোর জন্য এটি বেশ কার্যকরী। আরেকটি কার্যকরী ওষুধ হচ্ছে, ফিনাস্টেরাইড বা প্রপেশিয়া যা মুখে খাওয়ার উপযোগী এবং আপনি প্রতিদিন তা গ্রহণ করতে পারেন। যথাযথ ফলাফল পাওয়ার জন্য উভয় ওষুধ আপনাকে প্রতিদিন গ্রহণ করতে হবে। এই দুটি ওষুধ অনেকসময় পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে সঠিক চিকিৎসার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন: অনেকেই আছেন যারা চুল পড়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ভোগেন। ফলাফল হিসেবে চুল পড়ার হার বেড়ে যায়। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার ফলে চুলপড়াজনীত নানারকম সমস্যা বেড়ে যায়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে টেলোজেন এফ্লুভিয়াম (যার ফলে মাথা থেকে আপনাআপনি চুল ঝরে যায়), ট্রিকোটেলোমেনিয়া (যার ফলে বারবার চুল টানার ইচ্ছা জাগে ফলে মাথা থেকে প্রচুর পরিমাণে চুল পড়ে যায়) এবং অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা (যার ফলে চুলের গ্রন্থিগুলো আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার আক্রমণের শিকার হয়)। সুতরাং মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা এড়াতে নিয়মিত বিভিন্ন শারীরিক ব্যায়াম করুন।

ধূমপান এবং মদ্যপানের পরিমাণ কমান: আপনি হয়তো জানেন যে অতিরিক্ত ধূমপান এবং মদ্যপানের ফলে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হয়। কিন্তু এগুলোর প্রভাব যে আপনার চুলের ওপর পড়ে তা হয়তো আপনি কল্পনাও করেননি। গবেষণায় দেখা গেছে ধূমপান এবং মদ্যপান চুল পড়ার জন্য দায়ী। ধূমপানের ফলে শরীরের রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে আপনার চুলের গ্রন্থিগুলোতে সঠিক মাত্রায় রক্তপ্রবাহ না থাকায় চুল পড়া শুরু হয়। অন্যদিকে মদ্যপানের ফলে শরীরে পানিশূন্যতা এবং নানানরকম পুষ্টিজনিত সমস্যা দেখা দেয়। ফলে চুল পড়ার হার বৃদ্ধি পায়।
নিয়মিত ব্যায়াম সাহায্য করতে পারে: নিয়মিত ব্যায়ামের ফলে যেমন শরীর সুস্থ থাকে, তেমনি আপনার চুলের জন্যও উপকারী। ব্যায়ামের ফলে মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা দূরে থাকে এবং শরীরে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় যা চুলের বৃদ্ধি ঘটাতে সহায়তা করে।[১]

মেয়েদের চুল লম্বা করুন সহজ ৭টি উপায়ে!

চুল পড়ার সমস্যার পাশাপাশি আরেকটি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় মেয়েদের, তা হল চুল লম্বা না হওয়া। অনেক মেয়েই অভিযোগ করে থাকেন যে তাদের চুল লম্বা হয় না। মূলত চুল তিনটি ধাপে লম্বা হয়ে থাকে। অ্যানাজেন, ক্যাটাজেন, এবং টেলোজেন। অ্যানাজেন ধাপে চুল জন্ম গ্রহণ করে এবং তা দুই থেকে ছয় বছর পর্যন্ত থাকে। ক্যাটাজেন ধাপে নতুন চুল গজিয়ে থাকে, টেলোজেন ধাপে চুল জন্মানো বন্ধ হয়ে যায়। এটি চুলের জীবনচক্র। কিছু উপায়ে আছে যার মাধ্যমে আপনি আপনার চুল দ্রুত লম্বা করতে পারেন।

১. স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া: একটি সুষম ডায়েট নতুন চুল গজাতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর। সবুজ শাকসবজি, বিনস, মাছ এবং মাংস হতে পারে পুষ্টির সবচেয়ে ভাল উৎস। প্রতিদিনকার খাদ্যতালিকায় মাছ, সবুজ শাক সবজি, বাদাম, ডিম এবং মুরগির মাংস রাখুন। এটি আপনার চুল পড়া রোধ করে চুল লম্বা হতে সাহায্য করবে।

২. প্রতিদিন ১ থেকে ২ বার চুল ব্রাশ করুন: দিনে দুইবার আস্তে আস্তে দুই মিনিট সময় নিয়ে চুল ব্রাশ করুন। এতে মাথার তালুতে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পাবে। এবং তালুর প্রাকৃতিক তেল আপনার প্রতিটি চুলের গোড়ায় পৌঁছে যাবে। চুল ভেজা অবস্থায় ভুলেও চুল জোরে ব্রাশ করবেন না। এটি আপনার চুল পড়া বৃদ্ধি করে দিবে।

৩. শ্যাম্পু করার সময় স্কাল্প ম্যাসাজ করুন: শ্যাম্পু করার সময় আলতো ভাবে মাথার তালু ম্যাসাজ করুন। আঙুল দিয়ে এক থেকে দুই মিনিট মাথা ম্যাসাজ করুন। এটি মাথার তালুর রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে।

৪. গরম তেল ম্যাসাজ: খুব সহজ উপায়ে চুল বৃদ্ধি করার কার্যকরী উপায় হল গরম তেল ম্যাসাজ করা। নারকেল তেল, অলিভ অয়েল, জোজোবা অয়েল যেই তেল আপনি ব্যবহার করেন না কেন সেটি কিছুটা গরম করে নিন। এইবার এই তেলটি ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধরে মাথায় ম্যাসাজ করুন। এক দুই ঘন্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন।

৫. কাস্টর অয়েল ব্যবহার করা: রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কাস্টর অয়েল ম্যাসাজ করে নিন। এভাবে সারারাত রাখুন। পরের দিন সকালে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এটি সপ্তাহে এক বা দুইবার করুন। কিছুদিনের মধ্যে আপনি নিজেই নিজের চুলে পার্থক্য দেখতে পাবেন।

৬. অ্যাপল সিডার ভিনেগার: অ্যাপল সিডার ভিনেগার আপনার চুলের ময়লা, জীবাণু, ধুলাবালি দূর করে দিয়ে থাকে। এটি শুধু চুল বৃদ্ধি করে না, তারসাথে চুলের গোড়া মজবুত এবং সিল্কি নরম করে তোলে। শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার হিসেবে আপেল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করুন। ভিনেগারের গন্ধ যদি পছন্দ না করে তবে এতে আপনার পছন্দের কোন এসেন্সিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন।

৭. বালিশের কভার পরিবর্তন করুন: Townsend সুতির বালিশের কভার ব্যবহার করার পরিবর্তে সাটিনের কভার ব্যবহার করতে পরামর্শ দিয়েছেন। এটি আপনার চুলকে নরম রাখবে। সুতির কভারে ঘষা লেগে অনেক সময় চুল ঝরে পড়তে পারে। সাটিন এটি প্রতিরোধ করে থাকে।

এছাড়াও প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। চুলের বৃদ্ধি করতে পানির তুলনা হয় না।[২]

চুল পড়ার চিকিৎসা

কখনো অতিরিক্ত যত্নে, অথবা কখনো যত্নের অভাবে চুল পড়ার সমস্যা হয়। আবার জিনগত বিষয়, শরীরে পুষ্টির ঘাটতি ইত্যাদি কারণে চুল পড়ার সমস্যা হতে পারে। বর্তমানে চুল পড়ার সমস্যা বাড়ছে, ছোট থেকে বড় সবাই এই সমস্যায় ভুগছে, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। চুল পড়ার সমস্যা এত বাড়ছে কেন, এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন। বর্তমানে তিনি শিওর সেল মেডিকেলের ডার্মাটোলজি বিভাগে পরামর্শক হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : চুল পড়ার সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। এর কারণ কী?

উত্তর : ত্বক আমাদের শরীরের আবরণ। তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ চুল। চুলকে আমরা হয়তো সৌন্দর্য বর্ধক হিসেবে বলে থাকি। আর সেই চুলের প্রতি মুহূর্তে ঝুঁকির আশঙ্কা থাকে। আর সেই কারণে দেখা যায় প্রবীণরা তো আছেনই, কিশোর- কিশোরী, তরুণ- তরুণী, এমনকি শিশুদের মাতাপিতারাও আসেন, সন্তানদের চুলের নানা ধরনের সমস্যা নিয়ে।

প্রশ্ন : এই যে সমস্যাগুলো হচ্ছে, কেন হচ্ছে?

উত্তর : আমি কারণগুলোকে এভাবে সাজাই, আমরা যে পরিবেশে বাস করছি, পরিবেশে কিন্তু ঋতু বদলের খেলা চলছে। গ্রীষ্মে সূর্যের প্রখরতা, বর্ষায় আর্দ্রতা, আবার শরতে যে ঋতু পরিবর্তন হয়, তার একটি প্রভাব রয়েছে। আবার বসন্তের রুক্ষতা ও শীতে শুষ্কতা- এগুলো প্রত্যেকটি আমাদের চুলকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এরপর জিনগত কিছু বিষয় রয়েছে। স্বাস্থ্যগত কিছু বিষয় রয়েছে। কিছু কিছু রোগে আমাদের চুল পড়তেই থাকে। যেমন হরমোনের ভারসাম্যহীনতা যদি হয়, থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবেটিস, (যাদের অনেক দিন ধরে ডায়াবেটিস রয়েছে), পলিসিসটিক ওভারিয়ান সিনড্রম যাদের থাকে, তাদের সমস্যা হয়। এর পরও কিছু ওষুধ রয়েছে সেগুলোর কারণে হয়। অনেক দিন ধরে যারা অ্যান্টি হাইপারটেনসিভ বা অ্যান্টি ডিপ্রেসেন্ট ওষুধ নিচ্ছেন, সিস্টেমিক স্টেরয়েড খাচ্ছেন, তাদেরও চুল পড়া দেখা দেয়।

ইদানীং চুল পড়ার কারণ হিসেবে আমার যেটি মনে হয়, আমার অভিজ্ঞতা থেকে, সেটি হলো আমাদের নিজস্ব জীবনযাত্রা। সেখানে রয়েছে আমাদের অপর্যাপ্ত ঘুম, খাবার আমরা সঠিকভাবে নিচ্ছি না। আর চুলের হয়তো বেশি যত্ন করছি। এভাবে চুলের উপর হয়তো অত্যাচার করছি। অথবা চুলের যত্নে একেবারেই উদাসীন। চুলের যত্নে তুলনায়, চুলের সৌন্দর্যে আমার এখন বেশি আলোকপাত করছি। এই কারণেই সমস্যাগুলো বেশি দেখা দিচ্ছে। ছেলেমেয়ে উভয়েরই।

প্রশ্ন : চুলপড়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার বিষয় কখন রয়েছে? আপনাদের মত কী?

উত্তর : অনেকে চুল রুক্ষ্ম নিয়ে আসে। বলে, আমার চুল কোকড়া সিল্কি করে দেন। অনেকে বলে, আমার চুল সিল্কি একটু কোকড়া করে দেন।

মেয়েদের ক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায় সামনের সিঁথিটা চামচের মতো হয়ে যাচ্ছে। একে বলে অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়া। আর ছেলেদের ক্ষেত্রে চুল পেছনের দিকে চলে যাচ্ছে। ধরনটাই এই রকম। অনেক সময় হঠাৎ করেও অ্যালোপেশিয়া তৈরি হয়। রাতের বেলা দেখছে ঠিক আছে, সকালে ওঠে হয়তো দেখছে হঠাৎ করে এক গুচ্ছ চুল পড়ে গেছে। একে আমরা অ্যালোপেশিয়া এরিয়েটা বলি।

এরপর হলো চুলের আগা ফেঁটে যাওয়া। অনেকে আসে ব্রণের সমস্যা নিয়ে। তাদের ঠিকমতো ঋতুস্রাব হচ্ছে না, তখন দেখা যায় তাদের পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রম হচ্ছে। স্থূলতার সমস্যা নিয়ে আসছে, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে, তখন আমরা দেখছি তার চুল পড়াও একটি বিষয়। বেশ উপকারী।

চুলের ক্ষেত্রে রি-জেনারেটিভ মেডিসিনের ভূমিকার বিষয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ৩১৮৫তম পর্বে কথা বলেছেন ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন। বর্তমানে তিনি শিওর সেল মেডিকেলের ডার্মাটোলজি বিভাগে পরামর্শক হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : চুলের যত্ন কীভাবে নেওয়া যেতে পারে? রি-জেনারেটিভ মেডিসিনে আপনি অনেক দিন ধরে কাজ করছেন। চুলের যত্নে কি এর কোনো ভূমিকা রয়েছে?

উত্তর : রি-জেনারেটিভ মেডিসিন হলো রি-জেনারেশন বা পুনর্গঠনের মাধ্যমে কোনো একটি সমস্যার সমাধান করা। এটি প্রাকৃতিকভাবে করে। কোনো কৃত্রিম কিছু নয়। এই ক্ষেত্রে আমাদের শরীরের কোনো একটি অংশ নিয়ে আমরা চিকিৎসা করি। যেমন, সেখানে আমরা রক্ত থেকে প্ল্যাটিলেট নিয়ে থাকি বা স্টেমসেল নিয়ে থাকি। রক্ত থেকে স্টেমসেল আলাদা করে চুলে বিভিন্ন চিকিৎসায় ব্যবহার করি। রি-জেনারেটিভ মেডিসিন যেহেতু পুরোপুরি প্রাকৃতিক একটি চিকিৎসা, চিকিৎসা প্রক্রিয়াটা একটি হলিস্টিক অ্যাপ্রোচ। তাই এটি পুরোপুরি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিকভাবে আমি করতে পছন্দ করি।

এ ক্ষেত্রে আমি তো রোগীর ইতিহাস অবশ্যই নেব। তাহলে সেখানে বের হয়ে আসবে বংশগত কারণ, তাঁর জীবন-যাপনের ধরনটা কী বা তাঁর খাদ্যাভ্যাসটা কী। চুলের প্রতি কী রকম যত্ন নিচ্ছেন এটি দেখি। এরপর আমরা চুল পর্যবেক্ষণ করি। চুল পর্যবেক্ষণের মধ্যে আমরা চুল স্ক্রিনিং টেস্ট করি। ডার্মাস্কোপের মাঝখানে আমরা চুলের অবস্থা দেখি। আমরা হয়তো চোখে দেখতে পারছি না, চোখে হয়তো একটু কঠিন লাগছে, কিন্তু মাইক্রোস্কোপে পরীক্ষার মাধ্যমে দেখছি চুলের কিউটিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাচ্ছে। স্কাল্প আগের মতো স্বাস্থ্যকর লাগছে না। সাদাটে ভাব হয়ে গেছে। এসব আমরা পরীক্ষা করি।

এরপর রয়েছে বিশেষ কিছু পরীক্ষা। যেগুলো শুধু চুলের জন্যই। এই ক্ষেত্রে আমরা ভিটামিন বি কমপ্লেক্স পরীক্ষা করি। বি কমপ্লেক্সের প্রতিটি বি অর্থাৎ বি-ওয়ান থেকে বি-টুয়েলভ শরীরের কাজে লাগে। আমরা আলাদাভাবে বের করতে পারি যে, কার কতটুকু ঘাটতি রয়েছে। ভিটামিন ডি পরীক্ষা করি। জিংক পরীক্ষা করি। ছেলেদের ক্ষেত্রে হয়তো মেইল হরমোন প্রোফাইল করে থাকি, মেয়েদের ক্ষেত্রে ফিমেইল হরমোন প্রোফাইল করি।

অনেকে ভাবে, আমার তো খালি চুলের আগা ফেটে যাচ্ছে- তাহলে এতো পরীক্ষা কেন। আসলে এটিকে সামান্যভাবে দেখার কিছু নেই। সমস্যার কারণটা তো আগে বের করতে হবে।

পোষ্টটা কেমন লেগেছে সংক্ষেপে কমেন্টেস করে জানাবেন৷ T= (Thanks) V= (Very good) E= (Excellent) আপনাদের কমেন্ট দেখলে আমরা ভালো পোষ্ট দিতে উৎসাহ পাই।

Check Also

প্রায়ই গলা জ্বলে, চোঁয়া ঢেকুর ওঠে? এ সব উপায়ে ওষুধ ছাড়াই আয়ত্তে আনুন এই সমস্যা

সামান্য মশলাজাতীয় খাবার খেলেই গলা জ্বালা, চোঁয়া ঢেকুর, আর তার পরেই মুঠো মুঠো গ্যাস-অম্বলের ওষুধ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *