Saturday , 19 September 2020
[cvct-advance id=20554]

নিজের কর্তব্য ভুলে যাননি,গাছতলায় রোগী দেখে নজির গড়লেন চিকিৎসক

এন আর এস কাণ্ডের জেরে বিগত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসা ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। ডাক্তারদের ক্ষমা বিরোধীরা থাকা এবং বিভিন্ন হাসপাতালের আউটডোর বন্ধ করে দেয়াতে অসুবিধায় পরেছে চিকিৎসারত রোগীরা।

সেখানেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আসানসোল জেলা হাসপাতাল ও সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা৷ বুধবারের মতই বৃহস্পতিবারও স্বাভাবিক চিকিৎসা পরিষেবা মিলেছে এই হাসপাতালে৷ এমনকী রোগীদের বিশাল লাইন সামাল দিতে অগত্যা হাসপাতালের বাইরে গাছতলায় বসে চিকিৎসা করার ব্যবস্থা করে এবং রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা করেন।

নিয়ম অনুযায়ী, হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট কাটা শুরু হয় বেলা দশটা থেকে৷ সাড়ে এগারোটা থেকে শুরু হয় চিকিৎসা৷ কিন্তু বৃহস্পতিবার জেলা হাসপাতালের অস্থি বিশেষজ্ঞ ও শল্য চিকিৎসক ডাঃ নির্ঝর মাজি সকাল ৯টা নাগাদ পৌঁছান হাসপাতালে৷

হাসপাতালের চেম্বার না খুললেও, রোগীদের লাইন দেখে পার্কিং-এর কাছে গাছতলায় বসে পড়েন তিনি৷ মূহূর্তের মধ্যে সেখানেই ভিড় জমান রোগীরা৷ গাছতলায় বসেই তিনি শুরু করেন রোগীদের পরীক্ষা করা। এরপর বেলা বারোটায় চেম্বারে বসেন তিনি৷ নির্ঝর মাজি জানান, “বুধবার চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ছিল৷ ফলে সবাইকে সময়মতো দেখা যায়নি৷ চাপ কমাতে তাই আজ সকাল সকাল চলে এসেছি।”

এই ডাক্তার নির্ঝর মাজির চিকিৎসক হিসেবে সেখানে অনেক সুনাম রয়েছে। তিনিই প্রথম চিকিৎসক, যিনি সরকারি হাসপাতালে হাঁটু প্রতিস্থাপন, হিপ প্রতিস্থাপনের পর জটিল অস্ত্রপচারে সফলতা পেয়েছেন৷ তবে শুধু বৃহস্পতিবার নয়, এভাবে এর আগেও নির্দিষ্ট সময়ের আগে গাছতলায় বসে রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা দিয়েছেন তিনি৷

অন্যদিকে, বুধবারের কর্মবিরতি শেষে মানবিকতার খাতিরেই পরিষেবা দিতে এগিয়ে আসেন আসানসোল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চিকিৎসকরাও৷ তবে এনআরএস ঘটনার প্রতিবাদে এদিনও বুকে কালো ব্যাজ পরেছিলেন চিকিৎসকরা৷

মানুষকে পরিষেবা দিতে দায়বদ্ধ থাকলেও তাঁদের কাছে নিরাপত্তার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ৷ তবে চিকিৎসকরা কর্মবিরতি ছেড়ে কাজে যোগ দেওয়ায় হাসপাতালের পরিস্থিতি যেমন স্বাভাবিক হয়েছে,তেমনই রোগী ও রোগীর পরিবারও হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন৷

Check Also

PhD পাস ফল বিক্রেতা তরুণীর ঝরঝরে ইংরেজি লজ্জায় ফেলবে আপনাকে

একজন সবজি বিক্রেতা এই ভাবেই ঝড়ের গতিতে ইংরেজি বলতে পারেন এমনটা আমরা ভেবে উঠতে পারিনা। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!