immune defense

দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ৬ টি অজানা কৌশল জেনেনিন আজই…

যে কোন স্বাস্থ্য সচেতন ব্যাক্তিই রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ানোর প্রধান উপায় হিসেবে চিহ্নিত করবেন পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, ব্যায়াম ইত্যাদিকে। কিন্তু এ লেখায় আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এমন কিছু কাজ সম্পর্কে আলোচনা করা হবে যাদের সুপ্ত গুণাগুণ গুলো আমাদের অনেকেরই অজানা, যা নিয়মিত অনুসরণ অনেকগুণ বাড়িয়ে তুলতে পারে আপনার দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার (immune system) সক্ষমতাকে।

১. বন্ধু এবং প্রিয়জনের সংস্পর্শে থাকুন নিয়মিত (Socialize More): বন্ধুদের সাথে নিয়মিত আড্ডা, প্রিয়জনের সাথে ঘুরে বেড়ানো আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে পারে। গবেষণায় জানা গেছে, যারা অনেক বেশি এবং বিভিন্ন চরিত্রের মানুষের সংস্পর্শে থাকেন, তাদের সাধারণ সর্দি,জ্বর ইত্যাদি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। এছাড়া প্রিয়জনে বা বন্ধুদের স্পর্শ আমাদের শরীরের এমন কিছু কোষকে উজ্জীবিত (stimulate) করে, যাদের কাজ হল বিভিন্ন রোগ এবং ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলোকে (cancer cells) খুঁজে বের করে ধ্বংস করা।

২. গান শুনুন দিনের কিছুটা সময় (Listen to your favourite songs): দিনের কিছুটা সময় নিয়মিত গান শোনা বাড়িয়ে তোলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে (boosts our immunity)। এমন গান নির্বাচন করুন যা আপনার মনকে প্রশান্ত করে তোলে। আমাদের মস্তিষ্কের যে অংশে ভাল লাগা বোধ জন্মায় তাকে উজ্জীবিত করে গান। তাই নিজের প্রিয় গানগুলোর একটি তালিকা তৈরি করে নিন আজই।

৩. জোরালো শব্দ থেকে দূরে থাকুন (Stay away from harsh sound): তীব্র শব্দ মাংসপেশিতে টান, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, রক্ত পরিবাহী নালীর সংকোচন এমনকি হজমের সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে। কর্নেল ইউনিভার্সিটি কর্তৃক পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা শান্ত নিরিবিলি পরিবেশে কাজ করেন, তাদের হৃদরোগ (heart disease) হবার সম্ভাবনা অন্যদের চেয়ে অনেকটাই কম থাকে।

৪. ইতিবাচক চিন্তা করুন (Think positive): যারা ইতিবাচক চিন্তা করেন (positive thinkers), যে কোন জিনিসের ভাল দিকটা দেখার চেষ্টা করেন তাদের গড় আয়ু নিরাশাবাদী লোকদের তুলনায় ১০-১২ বছর বেশি হয়। যারা জীবনের নেতিবাচক দিকটাই আগে দেখেন, নার্ভাস এবং রাগান্বিত থাকেন তাদের রোগ প্রতিরোধ শক্তি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে।

৫. রাতে বাতি নিভিয়ে ঘুমান (Sleep Soundly): আমাদের শরীর শুধু মাত্র অন্ধকারেই মেলাটোনিন (melatonin) নামক একধরণের হরমোন (hormone) তৈরি করে , যার অন্যতম কাজ হলো বিভিন্ন রোগ বিশেষ করে স্তন ক্যান্সারের (breast cancer) হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করা। অপর্যাপ্ত ঘুম, কিংবা রাতে বেশি আলো জ্বালিয়ে ঘুমানোর অভ্যাস এই মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয়। তাই রাতে ঘুমানোর সময় ঘরের আলো যতটা সম্ভব কমিয়ে রাখুন ।

৬. হাসুন প্রাণ খুলে (Smile please!): যখনই সুযোগ পাবেন খুব প্রাণ খুলে হাসার চেষ্টা করুন । কারণ প্রথমত হাসি আমাদের মনকে সতেজ আর উৎফুল্ল রাখে, এছাড়া সংক্রমণ প্রতিরোধী এন্টিবডির (anti-body)সংখ্যাও বাড়িয়ে তোলে, আমাদের রক্ত চাপ (blood pressur) নিয়ন্ত্রণে রাখে, রক্ত পরিবাহী নালীগুলোকে প্রসারিত করে। তাই সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রাণখোলা হাসি অপরিহার্য। যার ফলে আপনার দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (immune system) হবে আরো কার্যকর।

যে ১০টি খাবার বাড়িয়ে তুলবে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

প্রতিটি মানুষের শরীরেই রোগ প্রতিরোধ করার সহজাত ক্ষমতা থাকে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে যেমন দূষণ, ভেজাল খাবার, অপুষ্টি, অনিয়মিত জীবনযাপন ইত্যাদির ফলে এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে থাকে। ফলস্বরূপ সামান্য রোগেই কাতর হয়ে যাওয়া। চিনে নিন কিছু খাবার, যেগুলো আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলবে।

১. পালংশাক: পালংশাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও আয়রন। আয়রন এমন একটি খনিজ উপাদান যা লোহিত রক্তকণিকা উত্‍পাদনের জন্য জরুরি তো বটেই, এটা রক্তস্বল্পতাও প্রতিরোধ করে। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধের কোষ বৃদ্ধির জন্যেও এটা জরুরি।

২. দই: দইয়ে থাকে অগণিত উপকারী ব্যাকটেরিয়া। তাই দই এর স্বাদের জন্য খেলেও আদতে আপনি পরোক্ষভাবে আপনার শরীরেরই উপকার করছেন!

৩. গ্রিন টি: সব ধরনের চায়েই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তবে গ্রিন টি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষভাবে সমাদৃত।

৪. লেবুজাতীয় ফল: ভিটামিন সি বিভিন্ন ধরনের রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতার জন্য সুপরিচিত। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের প্রদাহও প্রতিরোধ করে ভিটামিন সি। ভিটামিন সি বিশেষ ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা অনুচক্রিকা গঠনে সহায়তা করে এবং ফ্রি র্যাডিকেলের বিরুদ্ধে লড়ে। এই ভিটামিন সি লেবুজাতীয় সব ধরনের ফলে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। যেমন কমলা, মালটা, লেবু, জাম্বুরা ইত্যাদি।

৫. লাল ক্যাপসিকাম: সব প্রজাতির মরিচেই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। ক্যাপসিকামও এর বাইরে নয়, বিশেষ করে লাল ক্যাপসিকাম। এছাড়া এই উজ্জ্বল রঙের খাবারটিতে রয়েছে ক্যারোটিনয়েড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী উপাদান।

৬. ব্রকোলি: ব্রকোলি থেকে আপনি পেতে পারেন প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ক্যাবেজ পরিবার থেকে আসা ফুলের মতো দেখতে এই খাবারটিতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি এবং ই, যা ফ্রি র্যাডিকেলের বিরুদ্ধে লড়ে।

৭. রসুন: ভেষজ গুণের রাজা বলা হয় রসুনকে। রসুন আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরো কর্মক্ষম করে তোলে বহু গুণ। রসুনে রয়েছে অ্যালিকিন যা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ফাঙ্গাসের বিরুদ্ধে লড়ে।

৮. হলুদ: হলুদ মোটা হবার প্রবণতা থেকে শুরু করে ক্যান্সার – সবকিছুর বিরুদ্ধেই লড়াই করার ক্ষমতা রাখে। এটি দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহও সারিয়ে তোলে। এছাড়া এটি জ্বর, ঠাণ্ডা ও ফ্লু-এর বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

৯. আদা: আদায় উপস্থিত ভিটামিন সি কাশি এবং ঠাণ্ডার সমস্যা দ্রুত সারিয়ে তোলে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ প্রতিরোধেও আদার তুলনা নেই।

১০. কাঠবাদাম: কাঠবাদামে রয়েছে ভিটামিন ই যা খুবই শক্তিশালী একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি ঠাণ্ডার সমস্যা ও কাশি প্রতিরোধ করে। এর স্বাস্থ্যকর ফ্যাট শরীরে শক্তি প্রদান করে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বজায় রাখে এবং ক্ষতিকর বিভিন্ন উপাদান থেকে রক্ষা করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ার লক্ষণ

ভারতীয় পুষ্টিবিদ এবং ‘দি গ্রেট ইন্ডিয়ান ডায়েট’ বইয়ের লেখক ল্যুক কুটিনো স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ার লক্ষণগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।

সেখানে তিনি বেশ কয়েকটি বিষয় আলোচনা করেন। যেমন-

যখন তখন সংক্রমণ ও অ্যালার্জি: যদি অন্যদের তুলনায় বেশি অসুস্থ হন– বার বার ঠাণ্ডা লাগা, হাঁচি(ধুলার কারণে অ্যালার্জি), স্থায়ী কাশি, গলা ব্যথা, ত্বকে দানা দানা ওঠা ইত্যাদির মানে হল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম।

ফাঙ্গাসে আক্রান্ত, ডায়রিয়া, মাড়ি ফোলা, মুখে ফুসকুড়ি, লিম্ফ বা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পানির মতো জমে ফুলে ওঠা ইত্যাদি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ার লক্ষণ।

অনেক মানুষ পরিবেশের সামান্য পরিবর্তনেই অসুস্থ হয়ে যায়। এর কারণ হতে পারে শরীরের তাপমাত্রা কম। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি ব্যক্তির সুস্থ অবস্থায় মুখের তাপমাত্রা ৩৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম হয় না। কারণ সাধারণ ঠাণ্ডার ভাইরাস যেমন- রাইনোভাইরাস ৩৩ ডিগ্রি তাপমাত্রায় শক্তি পায়। নিয়মিত শরীরচর্চা করা শরীরের তাপমাত্রা ও কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাছাড়া রসুন, আদা, দারুচিনি, এলাচ ইত্যাদি মসলা শরীর গরম রাখতে ভালো কাজ করে।

জ্বর না হওয়া: প্রয়োজনের সময় জ্বর না হওয়াও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ার লক্ষণ। শরীরের নানান রোগের প্রতিরোধের জন্য জ্বর হওয়া প্রয়োজন। অধিকাংশ মানুষই জ্বর কমানোর জন্য ওষুধ খায়, যা শরীরকে ঠিক মতো কর্মক্ষম থাকতে দেয় না। সংক্রমণ ছাড়া যদি কয়েক বছর জ্বর না হয়ে থাকে তাহলে বুঝতে হবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম।

দুর্বল অন্ত্র: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ৮০ শতাংশ নির্ভর করে অন্ত্রের সুস্থতার উপর। দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, হজমে সমস্যা, অ্যাসিডিটি, পেটফাঁপা ইত্যাদি দুর্বল অন্ত্রের লক্ষণ। দুর্বল অন্ত্র বলতে ভালো ও খারাপ ব্যাকটেরিয়ার অসামঞ্জস্যতাকে বোঝায়। তাই প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া জরুরি।

ভিটামিন ডি কম থাকা: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে আমাদের অধিকাংশেরই এই ভিটামিন কম। রক্তে ভিটামিন ডি’য়ের মাত্রা কম থাকলে তা বাড়ানোর চেষ্টা করা উচিত। তাছাড়া, সবসময় আসুস্থ থাকা, ক্লান্ত লাগা, ঘুম ঘুম ভাব, কোনো আঘাত ভালো হতে অনেক সময় লাগা, রক্ত শূন্যতা, হতাশা, চোখের নিচে কালো দাগ ইত্যাদি দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার লক্ষণ।

অতিরিক্ত ‘মিউকাস’ বা শ্লেষ্মা উৎপাদনও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমের লক্ষণ। বাড়তি চিনি, লবণ, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও দুধের তৈরি খাওয়া বাদ দেওয়া এক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে।

শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ৫ উপায়

শীত আরামদায়ক ঋতু।কিন্তু এই সময় রোগব্যাধির প্রকোপ বাড়ে। জ্বর-সর্দি, ফ্লু, অ্যাজমা ইত্যাদি শীতের প্রচলিত সমস্যা। কিছু বিষয় শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে থাকে।

শীতের সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে এমন কিছু উপায়ের প্রয়োজনীয় কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট মাইন্ডবডিগ্রিন।

১. ভিটামিন সি: ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে।সতেজ ফল ও সবজি ভিটামিন ‘সি’র চমৎকার উৎস।আমলকী, আমড়া, কমলা, সবুজ শাক-সবজি ইত্যাদির মধ্যে ভিটামিন সি রয়েছে।

২. ভেষজ ও মসলা: পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ ইত্যাদি ভেষজ ও মসলা রান্নার সময় ব্যবহার করুন।এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমাতে কাজ করে।

৩.পানি পান করুন: শীতে অনেকে পানি কম পান করেন।আপনি জানেন কী? শীতেও কিন্তু পানিশূন্যতার সমস্যা হয়। তাই শীতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন।এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

৪. পর্যাপ্ত ঘুম: দীর্ঘমেয়াদি অবসন্নতা আর ঘুমের অভাবে রোগব্যাধির ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। ভালোমতো ঘুম শরীরে অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে।তাই প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমান।

৫. শারীরিক ব্যায়াম: শারীরিক ব্যায়াম শরীরকে চাঙ্গা রাখে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা হাঁটা শরীরকে ভালো রাখতে সাহায্য করে।তাই সুস্থ থাকতে নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করুন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে যেসব মসলা

ভাইরাস জ্বর, সাধারণ ঠান্ডা লাগা, সর্দিকাশি এবং পেটের সমস্যা তো লেগেই থাকে। আর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হলে ব্যাকটেরিয়া জনিত সংক্রমণ বেড়েই যায়। এই সময়ে সুস্থ থাকার জন্য এবং আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কাজে আসতে পারে বিভিন্ন মশলা। এইসব মসলা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কাজ করে।

হিং: হিং অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টি-ভাইরাল। হিং আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, পেটে ব্যথা এবং গ্যাসের সমস্যায় হিং অব্যর্থ। তরকারি, ডাল এবং অন্যান্য রান্নতেও হিং যোগ করতে পারেন।

হলুদ: এক চিমটে হলুদ আপনার পেটের সমস্যা কমাতে পারে। রান্নায়, ডালে, এমনকি এক গ্লাস দুধে এক চিমটি হলুদ দিয়ে খেয়ে দেখুন। বেড়ে যাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

গোলমরিচ: গোলমরিচ গ্যাস এবং পেটে অন্যান্য সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। প্রদাহের সমস্যা কমানো ছাড়াও, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল হিসেবেও মরিচ খুবই উপকারী। ডিমে, স্যান্ডউইচে, স্যুপে, স্যালাডে, গোল মরিচ ব্যবহার করতে পারেন।

লবঙ্গ: লবঙ্গ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। লবঙ্গে আছে ইউগেনল যা রক্তে সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস করে এবং শরীরে ব্যাক্টেরিয়া জনিত রোগব্যাধি থেকে লড়ার ক্ষমতা জোগায়।

মেথি: মেথি রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এগুলি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং বর্ষাকালে জ্বর ও বিভিন্ন সংক্রমণের হাত থেকেও আমাদের রক্ষা করে।

দারুচিনি: দারুচিনি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ এবং শরীরে প্রচুর পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ, ক্যালসিয়াম, ফাইবার এবং আয়রন সরবরাহ করে।

শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার ৫টি উপায়

দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারলে দ্রুত রোগে আক্রান্তের সম্ভাবনা কমে যায় এবং রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার মত ক্ষমতা তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় সামান্য রোগ শিশুদের জন্য মারাত্মক আকার ধারণ করে থাকে। ডায়রিয়া কিংবা ঠাণ্ডা লেগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুমৃত্যুর হার কমেনি এই আধুনিক চিকিৎসার যুগেও। এর প্রধান কারণ হচ্ছে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

শিশুদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকার কারণে সামান্য রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করে দেহকে অনেক দুর্বল করে তোলে। ইমিউন সিস্টেম ভেঙে পরার দরুণ রোগাক্রান্ত শিশুদেহ রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি পায় না। ফলশ্রুতিতে শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই অভিভাবকের উচিৎ সব সময় নিজের শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করার চেষ্টা করা।

শিশুদের ওজন কম রাখার চেষ্টা করুন: একটু মোটাসোটা নাদুস-নুদুস বাচ্চা দেখতে যতই ভালো লাগুক না কেন শিশুদের জন্য বাড়তি ওজন অনেক ক্ষতিকর। কারণ বাড়তি ওজনের শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম থাকে।

বাচ্চাদের ওজন তার বয়স এবং উচ্চতা অনুযায়ী সঠিক রাখার চেষ্টা করতে হবে। এর জন্য বাচ্চাদের উপযোগী কিছু সহজ শারীরিক ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে যেমন, সাইকেল চালানো, সাতার কাঁটা, বিকেলে শারীরিক খেলাধুলা করা। এতে দেহের সাদা রক্ত কনিকা বৃদ্ধি পাবে এবং দেহের ইমিউন সিস্টেম উন্নত হবে।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে তুলুন: বাচ্চারা অনেক সময়ই হাবিজাবি খাবারের জন্য আবদার করে থাকে। যতই আদুরে হোক না কেন বাচ্চার দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অভিভাবককে বাচ্চার বাজে খাদ্যাভাস বদলানোর চেষ্টা করতে হবে।

প্রতিদিন খাবার তালিকায় ফল এবং শাকসবজি রাখার চেষ্টা করবেন। বাচ্চা খেতে না চাইলে জোর না করে তাকে ফলমূল এবং শাকসবজি একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে পারেন। তাকে ছোটবেলা থেকেই ভালো খাদ্যাভ্যাসে গড়ে নিতে পারলে দেহের ইমিউন সিস্টেম উন্নত হবে।

খাবারে চিনির পরিমাণ কমিয়ে দিন: বেশি মাত্রায় চিনি জাতীয় খাবার ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে ফেলে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। গবেষকদের মতে ১ চা চামচ চিনি ৪ ঘণ্টার জন্য ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে ফেলতে সক্ষম। তাই চিনি জাতীয় খাবার কমিয়ে দিন একেবারে। এতে করে সুস্থ থাকবে আপনার শিশু।

সঠিক ঘুমের অভ্যাস তৈরি করুন: ঘুম খুব জরুরি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য। ঘুমের সময় দেহের ইমিউন সিস্টেম আপনাআপনি উন্নত হতে থাকে। বেশি রাত করে ঘুমানো এবং সকালে বেশি দেরি করে উঠা দেহের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে। এবং বাচ্চাদের জন্য ৯ ঘণ্টার কম ঘুম বেশ ক্ষতিকর। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাচ্চার ঘুমের সময় ঠিক রাখুন এবং প্রতিদিন ৯ ঘণ্টা ঘুমানর অভ্যাস গড়ে তুলুন।

পরিষ্কার পরিচ্ছনতার ব্যাপারে শিক্ষা দিন: বাচ্চাকে পরিষ্কার পরিচ্ছনতার শিক্ষা দিন। তাকে নিয়মিত হাত ধোয়া এবং গোসল করার ব্যাপারে উৎসাহী করে তুলুন ঘরোয়া শিক্ষায়। এতে করে সে ঘরের বাইরে স্কুলে যেয়েও খেলাধূলা করে, টিফিন খাবার আগে হাত ধোঁয়ার অভ্যাস বজায় রাখবে।

ঘরে গড়ে ওঠা এই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা তার দেহে রোগ সংক্রামণেও বাঁধা দেবে। দেহের ইমিউন সিস্টেম উন্নত হবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

পোষ্টটা কেমন লেগেছে সংক্ষেপে কমেন্টেস করে জানাবেন৷ T= (Thanks) V= (Very good) E= (Excellent) আপনাদের কমেন্ট দেখলে আমরা ভালো পোষ্ট দিতে উৎসাহ পাই।

Check Also

ক্যান্সার প্রতিরোধে নিয়মিত খেতে হবে এই ৭টি খাবার

২০১৫ সালের তথ্য অনুসারে সারা বিশ্বে প্রতি বছর নতুন করে ক্যান্সার রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *