Wednesday , 25 November 2020
[cvct-advance id=20554]

দুই পা নেই, স্বচ্ছ ভারত গড়তে হ্রদ থেকে প্লাস্টিক কুড়াচ্ছেন বৃদ্ধ

একজন সাধারণ মানুষ অর্থাৎ আমরা। আমাদের মধ্যে দুই হাত, দুই পা সহ অন্য কোনো রকম শারীরিক অক্ষমতা নেই। অথচ আমরাই অনেক সময় ছোট ছোট জিনিসগুলিকে অবহেলা করে সমাজকে আবর্জনায় ভরিয়ে ফেলি। প্লাস্টিক ব্যবহার পরিবেশকে দূষণের করতে পারে তা জেনেও আমরা এর ব্যবহার থেকে দূরে সরে আসতে পারি না।

আবার সেই প্লাস্টিক এবং চকলেটের প্যাকেট, কোল্ড্রিংসের বোতল ইত্যাদি যত্রতত্র ফেলে দিই। একবারও ভাবি না এগুলিকে যত্রতত্র ফেলে দেওয়ার কারণে পরিবেশ দূষিত হতে পারে। কিন্তু আমরা না ভাবলেও ভাবেন একজন বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তি। তাইতো সে তার দুই পা না থাকলেও পরিবেশকে দূষণমুক্ত করে তোলার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার চোখে-মুখে স্বচ্ছ ভারতের স্বপ্ন।

বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন এই ব্যক্তি হলেন কেরলের কোত্তয়ম জেলার বাসিন্দা ৬৯ বছর বয়সী বৃদ্ধ এস এন রাজাপ্পন। ছোটবেলা থেকেই এই ব্যক্তি পোলিও রোগে আক্রা;ন্ত হওয়ার কারণে বাদ গিয়েছে তার দুটি পা। দুটি পা না থাকলেও রাজাপ্পন স্বপ্ন দেখেন ভারতের দীর্ঘতম স্বচ্ছ জলের হ্রদ ভেম্বানাদকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার।

যে কারণে তিনি প্রতিদিন সকালবেলা বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে নৌকা করে গোটা হ্রদ ঘুরে বেড়ান। আর এই ঘুরে বেড়ানোর সময় জলের উপর কোথাও কোনো রকম প্লাস্টিক দেখলেই তা কুড়িয়ে নেন। দুই পা না থাকা তারপর আবার বয়সের ভার, এই দুই প্রতিকূলতা থাকলেও রাজাপ্পন বাবু তার লক্ষ্যে অটল। তিনি প্রতিদিন মনের জোরে এমন কাজ করে চলেছেন।

জানা গিয়েছে, রাজাপ্পন বাবু দীর্ঘ ৬ বছর ধরে এই কাজ একই রকম ভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে এই হ্রদ পরিষ্কার রাখার কাজ তার অভ্যাসে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাইতো ওই হতে সামান্য একটু প্লাস্টিক পড়ে থাকলেই তিনি পায়ের জোরে না হলেও মনের জোরে তরী ভাসিয়ে হ্রদ থেকে সেই প্লাস্টিক কুড়িয়ে নিয়ে আসেন।

তবে এখানে একটি প্রশ্ন জাগতে পারে, তাহলে ওই বৃদ্ধের উপার্জনের উৎস কি? আসলে ওই বৃদ্ধের উপার্জনের উৎসই হল ওই হ্রদের প্লাস্টিক। তিনি হ্রদ থেকে যেসকল প্লাস্টিকগুলি সংগ্রহ করেন সেগুলিকে বিক্রি করেই তিনি তার নিজের সংসার চালান। কিন্তু দেশে করো’না ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং লকডাউন জারি হওয়ায় তার কিছুটা হলেও আর্থিক অনটন দেখা দেয়।

কারণ পর্যটকের সংখ্যা কমে, আর পর্যটক না থাকায় ভুল করেও হ্রদে প্লাস্টিক ফেলার মত ঘটনা ঘটেনি। যে কারণে প্লাস্টিক সংগ্রহের সংখ্যা কমে যায়। তবে আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়লেও তিনি খুশি এই কারণেই যে, তার স্বপ্নের হ্রদ রয়েছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং প্লাস্টিক মুক্ত।

আপনার কাছে পোষ্ট টি কেমন লেগেছে সংক্ষেপে কমেন্টেস করে জানাবেন ৷ T=(Thanks) V= (Very good) E= (Excellent) আপনাদের কমেন্ট দেখলে আরো ভালো ভালো পোষ্ট দিতে উৎসাহ পাই।

Check Also

ছেলে হলে বি’ক্রি করতেন, মে’য়ে হ’ওয়ায় আ’ছড়ে মা’রলেন বা’বা

মাত্র একমাস ব’য়স মী’মের। মে’য়ে হয়ে জ’ন্ম নেওয়ায় বি’র’ক্ত ছিলেন বাবা কামাল হোসেন। আশা ছিল ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page