তীব্র গরমে শিশুদের সাডেন ডেথ সিনড্রম ও প্রতিরোধের উপায়

তীব্র গরমে যখন বড়দেরই ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা, তখন আপনার দুগ্ধপোষ্য শিশুটিও কিন্তু ভ্যাপসা গরমে কষ্ট পাচ্ছে। এ সময় আপনার আদরের শিশুটির দিকে বিশেষ সতর্ক দৃষ্টি রাখা দরকার।

এমন পরিস্থিতিতে ‘শিশুটিকে সুন্দর দেখাচ্ছে’ বা ‘এ পোশাকে ভালো লাগে’- এসব ভাবনা মাথা থেকে সরিয়ে নিন। এই হাঁসফাঁস গরমে জবরজং পোশাকে (Overdress) তাকে অস্থির করে তুলবেন না।

তীব্র গরমে অনেক সময়ে শিশুরা হঠাৎ মৃ্ত্যুর (Sudden Infant Death Syndrome বা সংক্ষেপে SIDS) শিকার হয়। ডাক্তার তথা চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে বিশদ বলতে পারবেন। তবে এখানে আমরা সাধারণ দৃষ্টিতে বিষয়টি সম্পর্কে একটু জেনে নিতে পারি। তীব্র গরমে ছোট বাচ্চাদের ঘুম গভীর হয় যা অনেক সময় তা SIDS এর ন্যায় বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। বাচ্চার মা-বাবা বা অভিভাবকরা হঠাৎ এই সর্বনেশে ঘটনায় হকচকিয়ে যান। কিন্তু সর্বনাশ যা হবার তা হয়ে যায়। বিষয়টি এত আচমকা ঘটে যে তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিরোধে তেমন কিছু করার থাকে না। তবে কিছু ব্যবস্থা, কিছু সচেতনতার মাধ্যমে আমরা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়াকে ঠেকাতে পারি। যেমন:

শিশুকে হালকা পোশাক পরান। শিশুটির জন্যে যা আরামদায়ক তা’ই পরান। গরমের কালে অতিরিক্ত কাপড়চোপড় পরানো পরিহার করুন। একই সাথে অনুগ্রহপূর্বক আঁটসাঁট পোশাক পরিহার করুন। সিনথেটিক পোশাক একেবারেই বাদ দিন গরমের দিনগুলোতে। পাতলা সুতি কাপড়ের ঢোলা পোশাকই হতে পারে এ সময়ের একমাত্র পরিধেয়।

প্রতীকী চিত্র

অসমতল জায়গায় শোয়াবেন না। তীব্র গরমে শিশু গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। আপনার অবোধ অপরিপক্ক শিশুটি যাতে এ সময় আরামদায়ক আর স্বাস্থ্যকর স্থানে ঘুমাতে পারে সেটা নিশ্চিত করুন। দেখুন, তার শোয়ার স্থানটি মানে বিছানাটা সমতল কি না। উঁচুনিচু জায়গায় শোয়াবেন না। এতে ঘুমের ঘোরে তার দম আটকে যেতে পারে এবং শিশুটি অসহায় শিকার হতে পারে এসআইডিএস এর।

উপুর করে শোয়াবেন না। এতেও তার শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হতে পারে। রাতের বেলা ঘুমানোর সময়ে তাকে নিরাপদ স্থানে শোয়ান। মা-বাবা অনেক সময় বুকের ওপর শিশুকে নিয়ে আদর বা খেলা করার সূত্রে একপর্যায়ে নিজে ঘুমিয়ে পড়েন বেকায়দাভাবে। এটা আপনার ছোট্ট, অশক্ত শিশুটির জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। শোয়ানোর সময়ে দুগ্ধপোষ্য শিশুর কাছ থেকে খেলনা, লেপ-কাঁথা, বাড়তি বালিশ দূরে রাখুন। এগুলোও বিপদ ডেকে আনতে পারে।

ভালো ভেন্টিলেশনের তথা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা। শিশুটি যে রুমে থাকছে সেখানে যেন বাতাস বয়ে যাবার পর্যাপ্ত জায়গা থাকে (দরজা ছাড়াও জানালা, ভেন্টিলেটর, ঘুলঘুলি ইত্যাদি)। তাকে এই গরমে বদ্ধ কক্ষে বা গাড়িতে জানালাবদ্ধ অবস্থায় কখনোই রাখবেন না। একই সঙ্গে খেয়াল রাখুন ধূমপানের বিষাক্ত ধোঁয়া বা অন্য যেকোনো অস্বাস্থ্যকর ধোঁয়া যেন না ঢোকে তার শোবার স্থানে।

বুকের দুধ খাওয়ান। এটা তার শারীরিক সক্ষমতাকে, প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষমতাকে মজবুত করবে।

প্রচুর পানি খাওয়ান। অন্যান্য সময়ে শিশুটি যে পরিমাণ পানি পান করে, এ গরমে তাকে তার অন্তত দ্বিগুণ পরিমাণ পানি খাওয়াতে চেষ্টা করুন। শিশুদের গায়ে আমাদের মতো ঘাম কম দেখা যায়, তাই তাকে সর্বদা নজরে রাখুন। যদি গায়ের তাপ বেশি মনে হয়, বা মুখ ফ্যাকাশে দেখায় বা দ্রুত শ্বাস নিচ্ছে বা অস্থির আচরণ করছে এমন মনে হয়, তবে বুঝতে হবে যে সে পানিশূন্যতায় ভুগছে।

আউটডোর অ্যাকটিভিটি। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ঘরের বাইরে খেলাধুলা একদম নিষেধ করে দিন। কারণ, এ সময়ের সূর্যালোক ত্বকের জন্যে সবচে ক্ষতিকর।

আউটিং। ঘটনাক্রমে যদি এ সময়ে আপনি বেড়াতে বের হন বা ছুটি কাটাতে যান, তবে খোলা রোদে নিজে ঘুরবেন না, শিশুটিকেও রাখবেন না। ছাতা রাখুন বা ছায়ায় থাকুন। সম্ভব হলে রোদচশমা বা সানগ্লাস ব্যবহার করুন।

এসআইডিএস যেন এক নীরব ঘাতক

সানবার্নের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। রোদে থাকার পর যদি গায়ে, বিশেষ করে ঘাড়ে বা হাঁটুর পেছনে বা কনুইয়ের ভাজে লাল লাল ছোপ দেখা যায়, তবে ঢোলা সুতি কাপড় পরান, ঠান্ডা কক্ষে রাখুন, ঘরের ভেন্টিলেশন নিশ্চিত করুন। লাল দাগগুলোতে কর্নস্টার্চ বেবি পাউডার দিতে পারেন। সানবার্নের ক্ষেত্রে ফোসকা পড়লে বা লাল দাগগুলোর স্থানে ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ফোসকাতে নিজে কিছু করতে গিয়ে ইনফেকশনের ঝুঁকি নেবেন না।

গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহে নিজের দিকে লক্ষ রাখুন এবং নিজের সন্তানের দিকে আরও বেশি লক্ষ রাখুন। সবাই সুস্থ থাকুন।

পোষ্টটা কেমন লেগেছে সংক্ষেপে কমেন্টেস করে জানাবেন৷ T= (Thanks) V= (Very good) E= (Excellent) আপনাদের কমেন্ট দেখলে আমরা ভালো পোষ্ট দিতে উৎসাহ পাই।

Check Also

সুখি হতে স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য কত হওয়া উচিৎ?

দাম্পত্য জীবনে দিনের পর দিন মধুর সম্পর্ক বজায় রাখতে স্বামী এবং স্ত্রীয়ের বয়সের পার্থক্য কম ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *