ছুলির দাগ দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে? জেনে নিন ঘরোয়া প্রতিকার

ছুলি বা ইংরেজিতে ‘আর্টিকারিয়া’ এক ধরণের চর্মরোগ। ‘আর্টিকারিয়া’ শব্দটি ল্যাটিন শব্দ ‘আর্টিকা’ থেকে এসেছে যার অর্থ পুড়ে যাওয়া। ছুলি হলে ত্বকের উপর ফ্যাকাসে লাল বা বাদামী রংয়ের ছোট ছোট ফুঁসকুড়ির মতো ছাপ পড়ে। কখনও কখনও ছুলি হলে জ্বালা বা চুলকানির মতো অনুভূতির সৃষ্টি হতে পারে। মুখে, কাঁধে, হাতে, পিঠের ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে ছুলি সৃষ্টি হয়। ছুলি নিরাময়ে একাধিক চিকিৎসা রয়েছে। যেগুলি ব্যায়বহুলও। তবে প্রাকৃতিক উপায়েও ছুলির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ছুলি নিরাময়ের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিক উপায় রয়েছে, যেগুলি অত্যন্ত কার্যকরী। আসুন প্রাকৃতিক উপায়ে ছুলি নিরাময়ের পদ্ধতিগুলি জেনে নেওয়া যাক।

১) লেবুর রস দিয়ে মালিশ: ছুলি নিরাময়ের ক্ষেত্রে লেবুর রস অত্যন্ত কার্যকরী। লেবুর রসে চামড়ার রং হালকা করার উপাদান আছে যা ত্বকের গাঢ় দাগ দূর করতে সাহায্য করে। লেবুর রস নিংড়ে আক্রান্ত অংশে লাগিয়ে ভাল করে মালিশ করুন। ১৫-২০ মিনিট পর সামান্য উষ্ণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন অন্তত দু’বার এ ভাবে মালিশ করুন।

২) লেবু-চিনির স্ক্রাব: লেবুকে কাজে লাগিয়ে আরেকটি কার্যকর পদ্ধতি হল লেবুর স্ক্রাব। একটি লেবু মাঝখান থেকে কেটে নিয়ে অর্ধেক অংশের উপর আধা চামচ চিনি ছিটিয়ে নিন। তার পর এটি আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে আলতো করে মালিশ করতে থাকুন। মিনিট দশেক মালিশ করার পর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এ ভাবে সপ্তাহ দুয়েক নিয়মিত ব্যবহার করলে ছুলির সমস্যায় উপকৃত হবেন।

৩) পেঁয়াজ: পেঁয়াজে থাকা এক্সফলিয়েটিভ উপাদান ছুলি নিরাময়ের ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর। একটি বড় মাপের পেঁয়াজ মাঝখান থেকে কেটে নিয়ে অর্ধেক অংশটি নিয়ে শরীরের ছুলি আক্রান্ত অংশে দিনে অন্তত ২ বার মালিশ করুন। যত দিন পর্যন্ত না ছুলির রং ফ্যাকাশে হচ্ছে, তত দিন এটি ব্যবহার করুন।

৪) টমেটোর রস: প্রথমে একটি বড় ও পাকা টমেটো নিয়ে ভাল করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। তার পর টমেটোটিকে ভাল করে চটকে নিয়ে শরীরের ছুলি আক্রান্ত অংশে লাগান। আঙ্গুল দিয়ে আলতো ভাবে কিছু ক্ষণ মালিশ করুন। ১৫-২০ মিনিট রেখে তারপর জল দিয়ে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। তবে খেয়াল রাখবেন, এটি ব্যবহারের কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সাবান ব্যবহার করবেন না। সপ্তাহ দুয়েক দিনে অন্তত ২ বার এই পদ্ধতি কাজে লাগালে ছুলির দাগ অনেকটাই হালকা হয়ে আসবে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতাও বাড়বে।

৫) টক দই: টক দইয়ের সাহায্যেও ছুলির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। টক দইয়ের ল্যাক্টিক অ্যাসিড ছুলি দূর করতে খুবই কার্যকরী একটি উপাদান। টাইরোসিনেজ নামের এনজাইম শরীরের মেলানিন ও অন্যান্য রঞ্জকের উপস্থিতির জন্য দায়ি। ল্যাক্টিক অ্যাসিড টাইরোসিনেজ এনজাইমের অতিরিক্ত উৎপাদনকে বাধা প্রদান করে। ফলে ত্বকের হাইপারপিগমেন্টেশন বাধাপ্রাপ্ত হয়। ৩ চামচ টক দই নিয়ে একটি কটন বলের সাহায্যে শরীরের ছুলি আক্রান্ত অংশে লাগান এবং অন্তত মিনিট পনেরো রাখুন। তার পর সামান্য উষ্ণ জল দিয়ে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। দিনে ৩-৪ বার এটি ব্যবহার করতে পারলে ছুলির সমস্যার সঙ্গে সঙ্গে কমবে ব্রণ-ফুসকুড়ির সমস্যাও।

৬) ভেজিটেবল মাস্ক: ২ টুকরো শশা ও ২ টুকরো স্ট্রবেরি নিয়ে একসঙ্গে ভাল করে চটকে নিন। এ বার এর সঙ্গে অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি ছুলির উপরে লাগিয়ে স্বাভাবিক ভাবে শুকিয়ে নিন। মিশ্রণটি পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা জল দিয়ে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। ছুলির সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এবং ত্বকের জেল্লা বাড়াতে সপ্তাহে অন্তত চারবার এই মাস্ক ব্যবহার করুন।

এ ছাড়া পেঁপে, বেগুন, আমন্ড তেল, কলা আর পুদিনার মাস্কও ছুলি দূর করার কাজে খুবই কার্যকরী।

পোষ্টটা কেমন লেগেছে সংক্ষেপে কমেন্টেস করে জানাবেন৷ T= (Thanks) V= (Very good) E= (Excellent) আপনাদের কমেন্ট দেখলে আমরা ভালো পোষ্ট দিতে উৎসাহ পাই।

Check Also

পাঁকা পেঁপে খাওয়ার ১০টি উপকারিতা

বিশ্বের জনপ্রিয় ফলগুলোর মধ্যে একটি পেঁপে। স্বাদ ও গুনাগুণের কারণেই মানুষের কাছে এর এতো কদর। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *