Tuesday , 22 October 2019

ক্রমশ ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে পৃথিবী, স্যাটেলাইটে ধরা পড়ল কিছু উদ্বেগের ছবি…

উষ্ণায়নের প্রভাবে বরফ গলছে এবং সেই প্রক্রিয়া এতো দ্রুততর হয়ে চলেছে যে সেটা শীঘ্রই একটা বীভৎস ধংসাত্বক রুপ নিতে চলেছে। একদিকে বিশ্বের উষ্ণতা যেরকম ভাবে বেড়ে চলেছে সেরকম ভাবেই কমে যাচ্ছে বৃষ্টিপাতের পরিমান। এই উষ্ণতা বৃদ্ধি বা ইংরেজিতে যাকে বলে গ্লোবাল ওয়ারমিং, তার মূল এবং প্রধান কারন হল পরিবেশ দূষণ।

পরিবেশ দূষিত হয়ে যাওয়ার ফলে নষ্ট হচ্ছে ওজন স্তর, প্রবেশ করছে অতিবেগুনি রশ্মি। আরও এক সমস্যা হল যে, এই যানবাহনের ধোঁয়ার আস্তরন যা ওপরে গিয়ে জমা হচ্ছে সেগুলো পৃথিবীর উত্তাপকে বাইরে বেরোতে দিচ্ছে না। ফলে পৃথিবীর উষ্ণতা বেড়েই চলেছে।

এই তালিকা থেকে বাদ নেই ভারতও। উষ্ণতা এবং স্মগের সমস্যা দিল্লীতে এতটাই বাজে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে যে মানুষের সেখানে নিশ্বাস প্রশ্বাস দায় হয়ে পড়েছে। এবার রাজস্থানের তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে এমন এক জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে যে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

সেখানে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রী ছাড়িয়ে গেছে। কেরলে যেখানে জুনের শুরু থেকেই বর্ষার সম্পূর্ণ রুপ দেখা যায় সেখানে জুনের মঝামাঝিতেও ঠিকঠাক ভাবে বর্ষার গমন হচ্ছে না। শুকিয়ে যাচ্ছে হিমালয়ের আরও অনেক নদ-নদী।

বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে বহু জায়গার জল শুকিয়ে গেছে। পরিবেশ অ্যাক্টিভিস্টদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা খুব ভয়ের। তারা অনেক বছর আগে থেকেই এই নিয়ে সরব হলেও এখনও মনের মত ফল পান নি। কারন এর কোন প্রমান ছিলনা।

কিন্তু এখন এই প্রমান দিচ্ছে স্যাটেলাইট ইমেজ। মধ্য চিলির লেক অ্যাকুলিওর একটি ছবিতে দেখা গেছে হ্রদ একেবারে শুকিয়ে গেছে। ছবিটি এবছরের। ২০১৪ সালে প্রথম যে ছবিটি নেওয়া হয়েছিল তাতে হ্রদের জল কিছুটা হলেও ছিল। কিন্তু এবছর নেওয়া স্যাটেলাইট ইমেজে সেটা একদম উধাও।

বিশ্ব উষ্ণায়ন ও আবহাওয়ার পরিবর্তন প্রকৃতিক সম্পদ ও জলের ক্ষেত্রে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পৃথিবী জুড়ে শহরের পরিধী বাড়ছে। তাই প্রকৃতি তার সামঞ্জস্য রক্ষা করতে পারছে না। লাস ভেগাস শহরের বেড়ে ওঠা স্যাটেলাইট ইমেজে ধরা পড়েছে। ১৯৭২ সালে লাস ভেগাসের যে রূপ ছিল ২০১৭ সালে তা আকারে অনেক বেড়েছে।

সুমেরুতেও একই অবস্থা। ১৯৮৪ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে সমুদ্রের অবস্থা অনেকটাই বদলেছে। এর কারণ উষ্ণায়ন। ২০১২ সালে সবচেয়ে কম বরফ জমেছে সুমেরু মহাসাগরে। বিজ্ঞানীদের এও আশঙ্কা এবার গ্রীষ্মে হয়তো সম্পূর্ণ সুমেরু মহাসাগরের বরফই উধাও হয়ে যাবে।

উষ্ণতা বাড়ার ফলে সুমেরুর বরফ খুব দ্রুতহারে গলছে। এর ফলে শৈলপ্রাচীরের ঘনত্ব কমছে। আন্টার্কটিকার ব্রান্ট আইস সেল্ফ গত ৩৩ বছরে একটি পরিবর্তন এসেছে। স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা গেছে বরফ ক্রমশ গলছে আন্টার্কটিকাতেও। এর মধ্যে বহু জায়গার বরফ একেবারেই গলে গেছে।

Check Also

ডেঙ্গি থেকে ক্যান্সার, .সারাতে পারে পেঁপে পাতার রস

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন অসুখের মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে পেঁপের জুড়ি মেলা ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *