Friday , 6 December 2019

কোনও অপরাধ না করেও ১২১ বছর ধরে পাকিস্তানে বন্দী রয়েছে এই বটগাছ!

১২১ বছর আগে গ্রেফতার করা হয়েছিল তাকে। মু’ক্তি মেলেনি আজও। সারা গায়ে শিক’ল জড়িয়ে, বোর্ড লাগিয়ে সে দাঁড়িয়ে রয়েছে জনসম’ক্ষে। রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা বদলে গেছে, ভেঙে গেছে গোটা দেশ। বদলে গেছে সব কিছু। শুধু ব’ন্দীদ’শা থেকে মুক্তি পায়নি সে। কোনও অপরাধ না করেও এই ভাবেই ব’ন্দী অবস্থায় রয়েছে পাকিস্তানে পেশোয়ারের একটি বটগাছ!

শুনলে মনে হয় অবিশ্বাস্য ঘটনা। কিন্তু পেশোয়ারে গেলে এই গাছ এখনও দেখতে পাবেন সকলে। তবে কেন ব’ন্দী করা হয়েছিল একটি গাছকে? জানা গেছে, ব্রিটিশ শাসনকালের একটি ঘটনা এই ব’ন্দী’ত্বের পিছনে দায়ী। ১৮৯৮ সালে লান্ডি কোটাল সেনা ক্যান্টনমেন্টে এই গাছটিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার পর থেকে কোনও বিচার ছাড়াই ব’ন্দী রয়েছে সে।

শোনা যায়, ওই ক্যান্টনমেন্টে ব্রিটিশ সেনা অফিসার জেমস স্কোয়াইড নাকি ম’দ খেয়ে নে’শা করেছিলেন এক দিন। সেই নে’শার ঘোরে হাঁটার সময় দেখতে পান, বটগাছটি তার দিকে তে’ড়ে আসছে। ব্যস, সঙ্গে সঙ্গে সে অফিসারের হুকুম, অ্যা’রেস্ট করা হোক গাছটিকে। হুকুম মতোই কাজ হলো। পাইক-পেয়াদারা ছুটে এসে আ’ষ্টেপৃ’ষ্ঠে শিক’ল পরিয়ে দিল অত বড় গাছটিকে।

তখন থেকেই নাকি শিক’লে বাঁধা রয়েছে বেচারা বটগাছ। তারপরে ব্রিটিশ শা’সনের অবসান ঘটে। রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পায় পাকিস্তান। নতুন সরকারের শা’সন শুরু হয়। তারপরে কালের নিয়ম মেনেই কত সরকার বদলে গেল। কিন্তু গাছটির ভাগ্যে কোনও পরিবর্তন হয়নি। এত বছর পরে, এখনও ওই বটগাছে একটি বোর্ড ঝুলছে। তাতে লেখা ‘আই অ্যাম আ’ন্ডার অ্যা’রেস্ট’।

কেউ কেউ অবশ্য দাবি করেন, পাকিস্তান-আফগান সীমান্তের লান্ডি কোটালের উপজাতি সম্প্রদায়কে ভয় দেখাতেই বটগাছকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেয় ব্রিটিশরাজ। যাতে ওই এলাকার উপজাতিরা বুঝতে পারেন, কোনও রকম বি’রুদ্ধা’চারণ করলে, দরকারে এমন শা’স্তি তাদেরও দেওয়া হবে।

সেসবই না হয় ঠিক আছে। কিন্তু সে যুগ তো পেরিয়ে গেছে কবেই। তারপরেও এখন পর্যন্ত গাছটিকে কী কারণে বেঁ’ধে রাখা হয়েছে, তার কোনও উত্তর নেই কারও কাছে। তার পক্ষ নিয়ে কোনেও আইনজীবীও কথা বলতে আসেননি আজ পর্যন্ত। ফলে কোনও মামলাও দায়ের করা হয়নি। দুনিয়ার বিরলতম অপরা’ধী বটগাছ হয়ে দর্শনীয় একটি বিষয় হয়ে থেকে গেছে সেটি।

পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মুখতিয়ার দুরানি জানিয়েছেন, ঘটনাটি মর্মা’ন্তিক হলেও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। ব্রিটিশ শাসনের সময় উপজাতি বহুল এই এলাকায় আইন কানুন কতটা ভ’য়াব’হ ছিল, তার উদাহরণ হয়েই রয়েছে এই ব’ন্দী বটগাছ। ব’ন্দী গাছকে দেখতে এখন অনেকেই যান সেখানে। গাছটি কি তাদের কাছে মু’ক্তির আকুল আবেদন জানায়? জানা যায় না। সূত্র : দ্য ওয়াল।

Check Also

কখনও সত্যের সঙ্গে আপস করেননি, সততার পুরস্কার হিসেবে ২৬ বছরে ৫৩ বার বদলি!

২৬ বছরের কেরিয়ারে কখনও সত্যের সঙ্গে আপস করেননি। সরকারে যেই থাক, তাদের কোনও অ’ন্যা’য় কাজকে ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *