আপনি যে ওষুধ ওষুধের দোকান থেকে কিনছেন তা আসল না নকল ? বুঝবেন কীভাবে ?

এমন কোন বাড়ি ভূভারতে খুঁজে পাওয়া যায় না, যেখানে অসুখ নেই বা শরীর খারাপ নেই। শরীর যখন আছে তখন শরীর খারাপও আছে। আর তাই আমরা শরীর খারাপ হলে ছুটে যায় ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার আমাদের শরীর দেখে প্রেসক্রিপশন দেন। আমরা সেই মোতাবেক ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ কিনে নিয়ম মতো খাই, ও সুস্থ হয়ে উঠি। তবে অনেক সময় দেখা যায় একই ব্র্যান্ডের দুটি ওষুধ দুটি আলাদা দোকান থেকে কিনে নিয়ে আসলে সব ওষুধেই একই রকম রোগের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে না।

অর্থাৎ একটি ওষুধ সহজেই রোগকে প্রতিকার করে দিল। কিন্তু ওই একই ব্র্যান্ডের অন্য দোকান থেকে আনা ওষুধ সেই কাজ করতে পারল না। অর্থাৎ ওই ওষুধটি নকল ছিল। আজকে পানীয় জল থেকে শুরু করে প্রাণদায়ী ওষুধ সকলেই নকলের রমরমা। আপনার কষ্টার্জিত টাকায় আপনার নিজের বা আত্মীয়ের জীবন বাঁচাতে আপনি ওষুধ কিনতে কার্পণ্য করবেন না। কিন্তু সেই ওষুধে যদি কাজ না হয়, তাহলে আপনি কী বা করতে পারবেন?

ডাক্তারদের মতো আমার আপনার মতো সাধারণ মানুষের এত ওষুধ সম্বন্ধে জ্ঞান থাকে না। তাই আমরা যাকিছু প্রেসক্রিপশনে লেখা থাকে সেই মতো ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ কিনে নি। কিন্তু আমরা যে ওষুধ কিনলাম সেটা যে আসল বা নকল ওষুধ তা আমরা বুঝবো কীভাবে? আমার আপনার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার জন্য এইরকম অনেক অসাধু লোকের এক চক্র কাজ করছে। যারা ওষুধের মোড়কে ওষুধ না দিয়ে কমদামি কিছু চালান করে চলেছে ওষুধ বলে।

আর আমার আপনার অজান্তেই এই ভাবেই আমাদের স্বাস্থ্যের উপর মারাত্বক খেলা খেলে চলেছে। আপনি যখন দেখছেন এই ওষুধে কাজ হচ্ছে না, তখন অন্য ডাক্তারের কাছে ছুটে যাচ্ছেন। তিনি আবার নতুন কিছু ওষুধের নাম দিয়ে নতুন প্রেসক্রিপশন লিখছেন। এইভাবে আপনার টাকাও যথেচ্ছ ভাবে খরচও হচ্ছে, অথচ আপনি কাঙ্খিত ফল পাচ্ছেন না। আসলে গোড়াতেই যে গলদ রয়ে গিয়েছে তা আমার আপনার মতো সাধারণ চোখ ধরতেও পারছে না।

কিন্তু আগামী দিনে যাতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষ নকল ওষুধ থেকে নিজেদের জীবন বাঁচাতে পারে। বা খুব সহজেই তারা যাতে বুঝতে পারে ওষুধের দোকান থেকে কেনা ওষুধ আদৌ আসল ওষুধ কী না,তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার নতুন ভাবনা নিয়েছে বলেই সূত্রের খবর। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকা The Drug Technical Advisory Board বা DTAB এমন এক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চলেছে,যেখানে সহজেই ওষুধের দোকান থেকে কেনা যেকোনো ওষুধ নকল কী না তা সহজেই সাধারণ মানুষ বুঝতে পারবেন।

তার জন্য তাদের কোন ল্যাবরেটরি বা পরীক্ষাগারে যেতে হবে না। তারা চাইছে প্রত্যেক ওষুধের প্যাকেটে বা কভারের গায়ে ১৪টি অক্ষর ও সংখ্যার একটা নির্দিষ্ট কোড লেখা থাকবে। যেমন থাকে প্যান কার্ডের নাম্বারে। আর আপনি ওষুধ কেনার পরই ওই কোড আপনার কাছে থাকা মোবাইল দিয়ে ম্যাসেজ করে দেবেন একটি নির্দিষ্ট নাম্বারে। সেই নাম্বার থেকে তারা তৎক্ষনাৎ মেসেজ দিয়ে জানিয়ে দেবে কোড টি আসল না নকল। আর এইভাবেই তৎক্ষনাৎ আপনি জানতে পারবেন ওই ওষুধ যা আপনার হাতে আছে তা আসল না নকল।

সরকার প্রথমে এই প্রকল্পটি একটি পাইলট প্রকল্প হিসাবে শুরু করতে চলেছে। প্রথমদিকে প্রায় ৩০০ টি বিভিন্ন নামী ওষুধের ব্র্যান্ডকে এই ১৪টি অক্ষর ও সংখ্যার মিলিত ভাবে স্পেশাল কোড দেওয়া হবে।এ ইভাবে যদি এই প্রকল্প সাধারণের মধ্যে সফল হয় তাহলে তা পরবর্তীতে সকল ব্র্যান্ডের সকল প্রকার ওষুধের উপরই কার্যকরী করা হবে। এইভাবে সহজেই নকল ঔষধ দ্বারা প্রতারণার ঘটনা বন্ধ হবে বলেই কেন্দ্রীয় সরকারের ধারণা। কেন্দ্রীয় সরকার২০১৪-১৬ সালে বাজারে চালু এইরকম ওষুধ নিয়ে একটি সমীক্ষা করেছিল।

যাতে তারা দেখেছে বাজার থেকে নেওয়া সকল ওষুধের নমুনার মধ্যে ৩.১৬% নমুনা সন্তোষজনক নয়, এবং ০.০২% নমুনাতে সন্দেজনক রাসায়নিক বা নকল ওষুধ পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও WHO দ্বারা ২০১৭ সালে এক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়, যেখানে বলা হয়েছে অনুন্নত দেশ বা উন্নয়নশীল দেশ অর্থাৎ ভারতের মতো দেশগুলিতে বাজার থেকে ব্যবহৃত ওষুধগুলির মধ্যে ১০.৫% ওষুধই জাল বা নকল। আর তাই সরকার চাইছে এই হারকে দ্রুত কমানোর জন্য সবরকম ব্যবস্থা নিতে। আর তাই সব দিক দিয়েই এই ব্যবস্থা সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সকল মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবে বলেই সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

পোষ্টটা কেমন লেগেছে সংক্ষেপে কমেন্টেস করে জানাবেন৷ T= (Thanks) V= (Very good) E= (Excellent) আপনাদের কমেন্ট দেখলে আমরা ভালো পোষ্ট দিতে উৎসাহ পাই।

Check Also

বয়স ৯৬, এই বয়সে পরীক্ষা দিয়ে পেলেন ১০০ তে ৯৮!

কথায় আছে, শেখার বয়স নেই। উপযুক্ত প্রমাণ কাত্যায়নী আম্মা। কিন্তু কেন? মাত্র ৯৬ বছর বয়স। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *