অষ্টম শ্রেণী ফেল ছাত্র এখন ২০০০ কোটির কোম্পানির মালিক! না পড়লে মিস করে যাবেন…

নিজের সখকে পেশা হিসেবে নিলে যা হয়। পরিশ্রমকে সঙ্গ করে নিয়ে সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া তখন অনেকটাই সহজ হয়। সাফল্যের পিছনে যে ইঁদুর দৌড় সেটা কষ্টসাধ্য হলেও বেশ উপভোগ্য হয়ে ওঠে তখন। আর সেটাই করে দেখালেন পাঞ্জাবের চন্ডীগড়ের বাসিন্দা ত্রিশনিট আরোরা।

কম্পিউটারের উপর কোনো ডিগ্রি ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজের আগ্রহ ও পরিশ্রমকে কেন্দ্র করেই টিএসি সিকিউরিটি নামে সাইবার কোম্পানির বর্তমান মালিক তিনি। কম বয়সে তার এমন সাফল্যের দরুণই এথিকাল হ্যাকারদের মধ্যে ফোর্বসে তিরিশ জনের তালিকায় উঠে এসেছে তার নামও।

আশ্চর্য কিন্তু সত্যিই সিলেবাসের পড়াশুনা স্কুল কলেজ কোনোটাই সেভাবে হয়ে ওঠেনি ত্রিশনটের। অষ্টম শ্রেণীতেই ফেল। তারপর মা-বাবাকে বলে পড়াশুনা ছেড়ে দেন। কিন্তু দমে যাননি, নিজের মেধাকে পুরোপুরিবভাবে শান দিতে থাকেন। আর তারই ফলস্বরূপ ২১ বছর বয়সে ব্যক্তিগত মালিকানায় কোম্পানি খোলেন যা বর্তমানে কোটি কোটি আয় করছে।

বর্তমানে ত্রিশনিটের বয়স মাত্র ২৪ বছর। লুধিয়ানার মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। ছোটবেলা থেকে পড়াশুনার পরিবর্তে কম্পিউটারে দিকে আগ্রহ বেশি ছিল। তিনি সারা দিন কম্পিউটারে হ্যাকিংয়ের কাজ শিখতেন। যার কারণে তিনি পড়াশুনা করতেন না এবং অষ্টম শ্রেণীতে ফেল করেন। ফেল করা পর তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু পরে তিনি দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষা দেন।

একজন এথিকাল হ্যাকার হিসেবেই বর্তমানে তার খ্যাতি। নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল্যায়ন করাই সাধারণত হ্যাকারদের কাজ হয়ে থাকে। মাত্র ২১ বছর বয়সে টিএসি সিকিউরিটির নামে সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানি তৈরি করেন। ত্রিশনিট বর্তমানে রিলায়েন্স, সিবিআই, পাঞ্জাব পুলিশ, গুজরাট পুলিশ, আমুল এবং এভন সাইকেল এর মতো কোম্পানিগুলিতে সাইবার সম্পর্কিত সার্ভিস দিচ্ছেন।

‘হ্যাকিং টক উইথ ত্রিশনিট আরোরা ‘ ‘হ্যাকিংয় উইথ স্মার্টফোন’ এর মতো বই লিখেছেন ত্রিশনিট। ইউকে এবং দুবাইতে বর্তমানে তার দুটো ভার্চুয়াল কোম্পানি রয়েছে। ৪০% ক্লায়েন্ট ডিল করেন এঅ অফিসে এসেই। অক্লান্ত পরিশ্রম করে ত্রিশনট উত্তর ভারতের প্রথম সাইবার ইমারজেন্সি রেসপন্স টিম তৈরী করেন।

ত্রিশনিট জানান যে, তার ছোটো থেকেই স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে এথিক্যাল হ্যাকিং নিয়ে পেশাগত কিছু করার। যদিও তার বাবা, যিনি একজন ট্যাক্স কনসাল্ট্যান্ট এবং মা, যিনি একজন গৃহবধূ, এই কাজ খুব একটা পছন্দের ছিল না। ত্রিশনিট আরও বলেন, দেশে যেভাবে ডিজিটাইজেশন বাড়ছে, তার জন্য সাইবার সিক্যুরিটির চাহিদা আরও বাড়বে।

সকলেই চাইবেন তাদের ওয়েবসাইট এবং সার্ভারকে হ্যাকারদের আক্রমণ থেকে বাঁচাতে। তিনি জানান, বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে আমাদের দেশে সাইবার নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য অন্তত ১০০০ টি এরকম কোম্পানির প্রয়োজন হবে।

ত্রিশনট অন্তত এটুকু বুঝিয়ে দিয়েছে যে ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়। দরকার শুধু পরিশ্রমের, হার না মানা মানসিকতা আর অদম্য ইচ্ছেশক্তির।

পোষ্টটা কেমন লেগেছে সংক্ষেপে কমেন্টেস করে জানাবেন৷ T= (Thanks) V= (Very good) E= (Excellent) আপনাদের কমেন্ট দেখলে আমরা ভালো পোষ্ট দিতে উৎসাহ পাই।

Check Also

খুব সাধারণ ও সহজলোভ্য জিনিস দিয়ে এতো সুন্দর একটা জিনিস তৈরী প্রথম দেখলাম,সত্যিই অভিভূত হবেন

সম্পূর্ণ ভিডিওটি পোষ্টের নিচে দেয়া আছে। ভিডিওটি দেখতে স্ক্রল করে পোষ্টের নিচে চলে যান। স্বাগতম ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *