অর্থ ব্যবস্থাপনার ১৫টি টিপস, যা আপনার জীবন বদলে দেবে !

অর্থের যথাযথ ব্যবস্থাপনাও যে একটি দক্ষতার বিষয়, সেটি আমরা অনেকেই উপেক্ষা করি। বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত লেন পেঞ্জো’র নিবন্ধ ‘পারসোনাল ফাইনান্স হ্যাবিটস এভ্রিওয়ান শুড ফলো’-তে তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে কিছু বিষয় আপনার জীবনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা অনেকখানি সহজ করে তুলতে পারে। নিবন্ধটি আপনাদের সুবিধার্থে অনুবাদ করেছেন মেহেদী হাসান দ্বীপ।

১. সারা মাসে আপনি যা আয় করেন, আপনার মাসিক ব্যয় এর চেয়ে অবশ্যই কম রাখুন। তা নাহলে আপনি দিন দিন ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পরবেন।

২. বড় অঙ্কের ব্যয় ও আয়ের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণী লিখে রাখুন, যাতে আপনি মাস শেষে তা দেখে বুঝতে পারেন কোন খাতে আপনার ব্যয় বেশি হচ্ছে, কোন খাতে আয় বেশি হচ্ছে আর কীভাবে ব্যয় কমানো যায়।

৩. প্ররোচিত হয়ে হঠাৎ করে কোনও জিনিস কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া থেকে দূরে থাকুন। অধিকাংশ বিজ্ঞাপনই আপনাকে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে প্ররোচিত করে থাকে।

৪. কেনার আগে সময় নিয়ে ছোট খাটো একটা গবেষণা করে ফেলুন। কোথায় কোন পণ্যের দর কেমন, কোন পণ্যের মান কেমন এসব নিয়ে ইন্টারনেটেই আপনি প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে যাবেন।

৫. বিল হাতে পাওয়া মাত্রই পরে দেখুন এবং দ্রুত পরিশোধ করে দিন কারণ আগে আর পরে এটি আপনাকে পরিশোধ করতেই হবে বরং দেরিতে পরিশোধ করলে আপনাকে অতিরিক্ত খরচ গুণতে হবে।

৬. ক্রেডিট কার্ড ব্যাবহার করা থেকে দূরে থাকুন। বিখ্যাত ধনকুবের ওয়ারেন বাফেট সবসময় ক্রেডিট কার্ড ব্যাবহারের বিপক্ষে বলেছেন।

৭. প্রতিমাসে আপনার আয়ের ১০ শতাংশ জমা করে রাখুন। সঞ্চয়কৃত অর্থ যে কোনও সময় বিপদে সহায়তা করতে পারে। তাছাড়া সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে আপনি নতুন কোনও বিনিয়োগ করতে পারেন।

৮. আপনার মানিব্যাগ বা ওয়ালেটে মোটা অঙ্কের টাকা রেখে দেবেন না। এতে টাকা চুরির আশংকা যেমন বেড়ে যায়, বাজে খরচ করার প্রবণতাও বেড়ে যায়।

৯. সাইন করার আগে সব সময় পুরো লেখা ভালোভাবে পড়ে নিন। একটি ভুল সারা জীবনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

১০. রেস্টুরেন্টে খাওয়ার অভ্যাস পরিহার করুন। আমরা রেস্টুরেন্টে গেলে ভদ্রতা রক্ষা বা আত্মসম্মান বোধের খুব কমই টাকা বাঁচানোর চিন্তা করি। চাইলেও অনেক সময় পরিস্থিতির কারণে বিলটা বাজেটের মধ্যে রাখা সম্ভব হয়ে উঠে না।

১১. লটারির টিকেট কেনা পরিহার করুন। এটি বাড়তি খরচ ছাড়া আর কিছুই নয়। লটারির টিকেট নয়, পরিশ্রমই আপনার ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।

১২. ঋণ নেয়া এড়িয়ে চলুন। এটি আপনাকে সাময়িকভাবে আর্থিক সমস্যা থেকে মুক্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপ তৈরি করবে যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বহন করা অসম্ভব হয়ে পরে।

১৩. কোন খাতে বিনিয়োগের আগে সেই খাত সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। আর বিনিয়োগের পূর্বে সংশ্লিষ্ট খাতে কাজে লেগে থেকে কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করাও জরুরি।

১৪. সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস পরিহার করুন। এটি শুধু আপনার ব্যয় বাড়াবে তাই নয়, সময়ের অপচয় ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করবে। আবার চিকিৎসা করতে আপনাকে মোটা অংকের টাকা গুণতে হবে। তাছাড়া স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হলে শেষ বয়সে আপনার জীবনের সব উপার্জন চিকিৎসায় ব্যয় করতে হবে না।

১৫. গাড়ি না কিনে রাইড শেয়ারিং সেবা গ্রহণ করুন। এককালীন কয়েক লক্ষ টাকার খরচ সামাল দেয়া কষ্টকর হতে পারে।

পোষ্টটা কেমন লেগেছে সংক্ষেপে কমেন্টেস করে জানাবেন৷ T= (Thanks) V= (Very good) E= (Excellent) আপনাদের কমেন্ট দেখলে আমরা ভালো পোষ্ট দিতে উৎসাহ পাই।

Check Also

কি আছে এই বাজার তালিকায় যা ফেসবুকে ভাইরাল !

আইটি বিশেষজ্ঞ স্ত্রী বাজার করতে স্বামীকে ধরিয়ে দিয়েছেন একটি লিস্ট। এক সপ্তাহের বাজার হিসেবে আলু, ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *