Tuesday , 18 June 2019

অটোওয়ালা প্যাসেঞ্জারের ৭ লক্ষ টাকার গয়নার ব্যাগ ফিরিয়ে দিলো, ৫ দিনের কঠিন পরিশ্রমের পর খুঁজে পেল সেই প্যাসেঞ্জারকে..

আজকালকার সময়ে টাকার বিষয় নিয়ে আমরা কারো উপর বিশ্বাস করতে পারিনা আর সে নিজের পরিবারের কেউ একজন হোক না কেন তার ওপর বিশ্বাস করা আমাদের পক্ষে কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু আজকের এই সময়ে যেখানে টাকার জন্য একজন ভাই তার নিজের ভাইয়ের ও গলা কাটতে পারে, তেমনই কিছু ভালো মানুষও এ পৃথিবীতে রয়েছে । তাদেরকে যত টাকারই লোভ দেওয়া হোক না কেন তাদের সম্মান তাদের কাছে সবার আগে।

তাদেরকে যত টাকারই লোভ দেওয়া হোক না কেন তারা কারোর সাথে কোনদিন এই বিশ্বাসঘাতকতা করে না। আর এরকমই এক সাধারণ অটোচালক সৎ হওয়ার মিশাল তৈরি করলো। লক্ষ লক্ষ টাকায় ভরা একটি ব্যাগ কে তিনি তার গ্রাহককে ফিরিয়ে দিলেন। যখন অটোচালক টি ফিরিয়ে দিয়ে এলেন গ্রাহক টির ৭ লক্ষ টাকার গয়নার ব্যাগ তারপর কি হল? জানুন এই ঘটনাটি কোন স্থানের?

সততা এমনই একটি জিনিস যেটি কখনো টাকা দিয়ে কেনা যায় না, কিন্তু যে এটি অর্জন নিতে পারবে তার চেয়ে সুখী মানুষ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে কেউ হতে পারবে না। ছত্রিশগড়ের এই অটোচালকটি, একজন সৎ ব্যক্তি হওয়ার সবচেয়ে বড় প্রমাণ দিল।

লক্ষ টাকার গয়না ভরা ব্যাগটি যার ছিল , এই অটোচালকটি তাকে তার ব্যাগটি বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে এলেন। মহেশ নামক এই অটোচালক টি তার গ্রাহকের ভুলে যাওয়া ব্যাগটিকে তার মালিকের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল এবং এই কাজটিকে সম্পূর্ণ করার জন্য তাকে পাঁচ দিন পর্যন্ত অত্যন্ত পরিশ্রম করতে হয়েছিল।

এই ব্যাগটিতে ৭ লক্ষ টাকায় হিরে, জুয়েলারি এবং কিছু খুচরো টাকাও ছিল । অটোচালক টি পুলিশের উপস্থিতিতে সে ব্যাগটি তার মালিকের কাছে দিল এবং এই অটোচালকটির সততা দেখে শহরের বাসিন্দারা তার অত্যন্ত প্রশংসা ও করল ।

আসলে ছত্রিশগড়ের জগদলপুর শহরের বাসিন্দা অটোচালক মহেশ প্রতিদিনের মত সেদিনও তার নিজের কাজ অটোচালাতে সে বেরিয়ে পড়েছিল। একদিন গাজিয়াবাদ থেকে তার ভাই এর বাড়িতে বিয়ে উপলক্ষে জগদলপুর এ আসা একজন মহিলা, মহেশের অটোতে বসে ছিল এবং অটো থেকে নামার সময় সে তার নিজের ব্যাগ টি সেই অটোতে ই ভুলে গিয়েছিল। মহেশ রাতে যখন নিজের অটোটি প্রতিদিনের মতো নিজের বাড়ির পাশে রেখেছিল, তখন তার স্ত্রী তাকে জানালো যে, বাড়িতে একজন তার ব্যাগ ভুলে গেছে।মহেশ যখন সে ব্যাগটি খুলে দেখল তখন , স্বামী স্ত্রী দুজনেই চমকে গেল।

ব্যাগটিতে সোনার আংটি এবং চেনটির সাথে নগদ রাশি রাখা ছিল। সে সময় মহেশ খুঁজে পেল না যে সে কি করবে এবং সে জানতো না যে এই ব্যাগটি কার ছিল, কারন পুরো দিন অনেক ব্যক্তি তার অটোতে চেপেছিল। প্রথমে মহেশ এই ব্যাগ টিকে ঘরের একটি সুরক্ষিত স্থানে রেখে দিল এবং মনে করার চেষ্টা করতে লাগল যে এই ব্যাগটি তার কোন গ্রাহকের ছিল।

পরের দিন সেই ব্যাগটির মালিক টিকে খোঁজার জন্য মহেশ এই পথ দিয়ে ঘোরাফেরা করতে লাগলো কিন্তু দিনভর খোঁজার পর সেই ব্যাগটির মালিকের কোন খোঁজ পাওয়া গেল না। ক্রমাগত পাঁচ দিন পর্যন্ত মহেশ এবং তার স্ত্রী খুব চিন্তায় ছিলেন যে, এই ব্যাগটির মালিকের খোঁজ কিভাবে করা যাবে।

যখন কোন খোঁজ পাওয়া গেল না তখন মহেশ ভাবল যে, এই ব্যাগটি খুলে দেখা যাক যে তার সঙ্গে সম্পর্ক করার নিয়ে কিছু লেখা আছে কিনা, এরপর মহেশ এ ব্যাগটিকে পুরোপুরি খালি করে দিলো এবং ব্যাগটিতে আধার কার্ডের সাথে সাথে একটি মোবাইল নম্বরও পাওয়া গেল।

মহেশ পেল সম্মান:- মোবাইল নম্বর পাওয়া মাত্রই মহেশ এবং তার স্ত্রীর মনে একটি আশার কিরণ দেখা গেল। মহেশ এই নাম্বারটিতে ফোন করলো এবং পুরো ঘটনাটি খুলে বললো ও জানালো ব্যাগটি তার কাছে সুরক্ষিত আছে এবং তারা সে ব্যাগটি তার কাছ থেকে নিয়ে যেতে পারে।

প্রত্যেকে পুলিশ থানাতে একে অপরের সঙ্গে দেখা করল, এবং মহেশ তার সততার পরিচয় দিয়ে সে ব্যাগটি তার মালিকের কাছে দিয়ে দিল। মহেশের সততা দেখে পুলিশ অফিসারাও তাকে প্রত্যাহিত করল এবং তাকে একটি শাল পরিয়ে ৫০০১ টাকার একটি রাশি দিয়ে সহযোগিতা করল।

Check Also

মৃত্যুর আগে অসুস্থ দাদুর শেষ ইচ্ছা পূরণ করলেন এই নাতনী! হৃদয়স্পর্শী গল্পটি পড়লে…!!

মৃত্যুর আগে অসুস্থ দাদুর- ফু সুয়েই, চীনের ২৫ বছর বয়সী একজন নারী উদ্যোক্তা। তিনি কিছুদিন ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *